শিক্ষা ও পরিবেশ
মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন
শিক্ষা ও পরিবেশ মানুষের বিকাশের ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত দুটি বিষয়। শিক্ষা মানুষের প্রাকৃতিক জগতকে বোঝার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে, আর পরিবেশ সেই ভৌত ও সামাজিক পরিস্থিতি তৈরি করে যার মধ্যে শেখার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষ বাতাস, পানি, মাটি, বনভূমি, মহাসাগর, জীববৈচিত্র্য এবং একটি স্থিতিশীল জলবায়ুর ওপর নির্ভরশীল। অথচ দ্রুত শিল্পায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বন উজাড়, দূষণ, বর্জ্য সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত নানা গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায়, পরিবেশগত সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ, বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়া এবং টেকসই জীবনধারা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই সাথে, শিশু ও তরুণদের কার্যকরভাবে শেখার জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ অপরিহার্য। তাই শিক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে টেকসই উন্নয়নের পারস্পরিক সহায়ক দুটি দিক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষার সূচনা হয় শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির সাথে তাদের সম্পর্ক বুঝতে সহায়তা করার মধ্য দিয়ে। শিশুরা তাদের জীবনের শুরু থেকেই ঘরবাড়ি, সমাজ, বিদ্যালয়, নদী, মাঠ, পার্ক এবং শহুরে পরিবেশের মাধ্যমে প্রকৃতির সংস্পর্শে আসে। বিশুদ্ধ পানির গুরুত্ব, বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় গাছের ভূমিকা কিংবা বন্যপ্রাণীর ওপর বর্জ্যের প্রভাব সম্পর্কে জানার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বুঝতে শেখে যে মানুষের প্রতিটি কাজেরই কোনো না কোনো ফলাফল থাকে। বিদ্যালয়গুলো বাগান করা, বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং), জীববৈচিত্র্য বিষয়ক প্রকল্প এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে এই বিষয়গুলোকে অর্থবহ করে তুলতে পারে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষাকে কেবল শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক আলোচনার গণ্ডি থেকে বের করে প্রাত্যহিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করে তোলে।
জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ যা বিভিন্ন দেশকে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রভাবিত করলেও এর সমাধানে প্রয়োজন সম্মিলিত বোঝাপড়া ও পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের জলবায়ু পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এবং অভিযোজন ও প্রশমনের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে হবে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে—যেখানে জনগোষ্ঠী বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো ঝুঁকির মুখে রয়েছে—সেখানে পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা তরুণদের জলবায়ু ঝুঁকি বুঝতে এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করতে পারে। নেদারল্যান্ডসের ক্ষেত্রে দেখা যায়, পানি ব্যবস্থাপনা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে নিচু ভূমিতে বসবাসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সাথে শিক্ষা ও জনসচেতনতা নিবিড়ভাবে জড়িত। এসব উদাহরণ প্রমাণ করে যে, পরিবেশ বিষয়ক জ্ঞান পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বাস্তব প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
শিক্ষা প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের বিষয়টিও উৎসাহিত করে। আধুনিক সমাজ বিপুল পরিমাণে পানি, শক্তি, খাদ্য, খনিজ ও অন্যান্য সম্পদ ব্যবহার করে। দায়িত্বশীল ভোগ বা ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা না থাকলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তুতন্ত্রের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়, অপ্রয়োজনীয় ভোগ কমানো, বর্জ্য বর্জন, পানির উৎস রক্ষা এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষা দিতে পারে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যা শেখে তা তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করায় এই অভ্যাসগুলো পরিবার ও সমাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবেশগত শিক্ষার মাধ্যমে এমন একটি টেকসই জীবনযাত্রার সংস্কৃতি গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কেবল শ্রেণিকক্ষের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
কৃষিভিত্তিক সমাজেও শিক্ষা ও পরিবেশের মধ্যকার সম্পর্কটি স্পষ্ট। কৃষকরা সরাসরি সুস্থ মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য এবং অনুকূল জলবায়ু পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। শিক্ষার মাধ্যমে কৃষক ও গ্রামীণ শিক্ষার্থীরা টেকসই কৃষি পদ্ধতি, মাটি সংরক্ষণ, পানি ব্যবস্থাপনা, শস্য বৈচিত্র্যকরণ এবং জলবায়ু-সহনশীল কৌশল সম্পর্কে জানতে পারে। আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষামূলক কর্মসূচিগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে টেকসই কৃষি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে সহায়তা করেছে। একইভাবে, কেনিয়া ও ভারতের মতো দেশগুলোতে কৃষি শিক্ষায় এমন সব পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যা পরিবেশের ক্ষতি না করেই উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সক্ষম। শিক্ষা যখন বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সাথে স্থানীয় অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটায়, তখন তা জীবিকা নির্বাহ ও পরিবেশ রক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই অবদান রাখতে পারে।
পরিবেশগত শিক্ষা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কাজকেও জোরদার করতে পারে। আবাসস্থল ধ্বংস, দূষণ, অত্যধিক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক প্রজাতি আজ হুমকির মুখে। বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে ধারণা থাকলে শিক্ষার্থীরা উদ্ভিদ, প্রাণী ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষার গুরুত্ব আরও ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারে। কোস্টারিকার মতো দেশগুলো শিক্ষা ও পরিবেশ-বান্ধব পর্যটনের (ইকো-ট্যুরিজম) সাথে পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বয় ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণরা বনভূমি, বন্যপ্রাণী এবং বাস্তুতান্ত্রিক পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে জানতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন সংরক্ষিত এলাকা ও সংরক্ষণ প্রকল্পেও এ ধরনের উদ্যোগ দেখা যায়। শিক্ষা জীববৈচিত্র্যকে কেবল একটি দূরবর্তী বৈজ্ঞানিক ধারণা থেকে উন্নীত করে সবার সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্ববোধে পরিণত করতে সহায়তা করে।
শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ভৌত পরিবেশ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনিরাপদ পানীয় পানি, তীব্র বায়ু দূষণ, প্রচণ্ড তাপ, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন বা অস্বাস্থ্যকর স্কুল ভবনের সংস্পর্শে থাকলে শিশুরা কার্যকরভাবে শিখতে পারে না। পরিবেশগত খারাপ পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে অনুপস্থিতির কারণ হতে পারে এবং তাদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে স্কুলগুলোতে হয়তো বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন সুবিধা, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা বা চরম আবহাওয়া থেকে সুরক্ষার অভাব থাকতে পারে। তাই স্কুলের পরিবেশের উন্নয়ন কেবল একটি পরিবেশগত নীতি নয়; এটি শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বিনিয়োগ।
নগরায়ন শিক্ষা ও পরিবেশগত সচেতনতার মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তৈরি করেছে। বর্তমানে লক্ষ লক্ষ শিশু শহরে বেড়ে উঠছে, যেখানে বন, খামার, নদী বা অন্যান্য প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে তাদের যোগাযোগ সীমিত হতে পারে। স্কুলগুলো সবুজ এলাকা, বাগান, পরিবেশ বিষয়ক ক্লাব এবং বাইরে শেখার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে এই বিচ্ছিন্নতার ঘাটতি পূরণ করতে পারে। সিঙ্গাপুরের মতো শহরগুলো তাদের নগর উন্নয়নে সবুজায়ন ও পরিবেশগত সচেতনতাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা টেকসই নগর জীবনের সাথে শিক্ষাকে কীভাবে যুক্ত করা যায় তার চমৎকার উদাহরণ। শিক্ষার্থীরা শহরের জীববৈচিত্র্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সাশ্রয়, গণপরিবহন এবং সবুজ এলাকার গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারে।
শিক্ষা পরিবেশগত নাগরিকত্বও গড়ে তোলে। শুধু সরকারি নীতি বা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মাধ্যমে পরিবেশগত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তি, সম্প্রদায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সুশীল সমাজের সবারই দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষিত নাগরিকরা জনআলোচনায় অংশ নিতে পারেন, পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন দাবি বা তথ্য যাচাই করতে পারেন, দায়িত্বশীল নীতিকে সমর্থন করতে পারেন এবং সঠিক ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। গণতান্ত্রিক সমাজে এমন নাগরিকদের প্রয়োজন যারা পরিবেশগত বিষয়ের বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক—উভয় দিকই বোঝেন। তাই পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা অংশগ্রহণকে জোরদার করতে পারে এবং মানুষকে টেকসই সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করতে পারে।
এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। একজন জ্ঞানী ও পরিবেশ-সচেতন শিক্ষক বিজ্ঞান, ভূগোল, সাহিত্য, অর্থনীতি, ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমে পরিবেশগত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। নদী বিষয়ক কোনো পাঠে ভূগোলের পাশাপাশি দূষণ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। সাহিত্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি-বিষয়ক লেখা ও পরিবেশগত নৈতিকতার সাথে পরিচিত করা সম্ভব। অর্থনীতি বিষয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। বিজ্ঞানের ক্লাসে বাস্তুতন্ত্র ও জলবায়ু ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। এ ধরনের আন্তঃবিষয়ক শিক্ষা প্রমাণ করে যে, পরিবেশগত বিষয়গুলো বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়, বরং মানুষের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রের সাথেই এগুলো জড়িত।
পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষায় মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত। কেবল জ্ঞান থাকলেই যে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে উঠবে, তা নয়। প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ববোধ, সহযোগিতা, সহানুভূতি এবং পরিবেশের অভিভাবকসুলভ মনোভাব গড়ে তোলার সুযোগ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আদিবাসী সম্প্রদায়গুলো দীর্ঘকাল ধরে এমন সব ঐতিহ্য বজায় রেখেছে যা মানুষ ও প্রাকৃতিক জগতের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে। সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকে সম্মান জানিয়ে এবং পরিবেশগত বোঝাপড়া কেবল আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই আসে—এমন ধারণা পরিহার করে শিক্ষাব্যবস্থা এ ধরনের জ্ঞান থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
প্রযুক্তি পরিবেশগত শিক্ষার পরিধি আরও প্রসারিত করতে পারে। ডিজিটাল মানচিত্র, উপগ্রহ চিত্র, পরিবেশগত তথ্যভাণ্ডার, প্রামাণ্যচিত্র, ভার্চুয়াল ফিল্ড ট্রিপ এবং অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ এলাকার বাইরে বা দূরবর্তী স্থানে ঘটা পরিবেশগত পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারে। শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বনভূমি, হিমবাহ, মহাসাগর, শহর এবং কৃষি-ভূদৃশ্যের মধ্যে তুলনা করতে সক্ষম হয়। তবে প্রকৃতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার বিকল্প হিসেবে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা উচিত নয়; বরং প্রযুক্তি যেন সেই সম্পৃক্ততাকে আরও সমৃদ্ধ করে, সেটাই কাম্য। স্থানীয় পরিবেশের অভিজ্ঞতা অর্জন এবং বাস্তব সংরক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষা ও পরিবেশ হলো একটি টেকসই ভবিষ্যতের অবিচ্ছেদ্য ভিত্তি। শিক্ষা মানুষকে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে এবং দায়িত্বশীল আচরণ করতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও আত্মবিশ্বাস জোগায়; অন্যদিকে, একটি সুস্থ পরিবেশ কার্যকর শিক্ষা ও মানুষের কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের জলবায়ু বিষয়ক শিক্ষা ও নেদারল্যান্ডসের পানি ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে কোস্টারিকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সিঙ্গাপুরের টেকসই নগর উন্নয়ন—বিশ্বব্যাপী এসব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, পরিবেশগত শিক্ষা নানা রূপে ও পদ্ধতিতে হতে পারে। এক্ষেত্রে স্কুল, পরিবার, সরকার, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা—সবারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষা যদি তরুণদের প্রকৃতিকে বুঝতে, প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে, পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা করতে এবং দায়িত্বশীল আচরণ করতে শেখায়, তবে তা এমন সমাজ গঠনে সহায়তা করতে পারে যা মানবিক উন্নয়ন ও পরিবেশগত ভারসাম্য—উভয়কেই বজায় রাখতে সক্ষম। তাই পরিবেশগত শিক্ষা কেবল ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর ও অধিকতর টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি বর্তমানেরই একটি অপরিহার্য অংশ।
শিক্ষা ও পরিবেশ

