ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে ডেসকোর ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর
নিজস্ব প্রতিবেদক: টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো), আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর এবং ফাইবার অ্যাট হোম। এ চুক্তির আওতায় জাতীয় গ্রন্থাগার ভবনের ছাদে ৩০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ইয়াসমিন বেগম। তিনি বলেন, আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি সব সরকারি দপ্তরে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকে উৎসাহিত করতে সরকার বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এ সময়ের মধ্যে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হলে সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তা কিনে নেবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয় কমাতে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ১৮০ দিনের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ইয়াসমিন বেগম বলেন, জাতীয় গ্রন্থাগার ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে তাঁরাও সরকারের বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এ উদ্যোগে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে কোনোভাবেই হতাশ না হয়, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। এ সময় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যেসব স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা সম্ভব, সেগুলোতে দ্রুত এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ যুক্ত করার উদ্যোগ জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় ডেসকোর ১২.৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সোলার প্রকল্পের অংশ হিসেবে আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ছাদে ৩০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জাতীয় গ্রিডে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডেসকোর পক্ষে স্বাক্ষর করেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গাজী শাহরিয়ার পারভেজ। আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পক্ষে স্বাক্ষর করেন পরিচালক (যুগ্মসচিব) ফারজানা সুলতানা এবং ফাইবার অ্যাট হোমের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক শাহজামান হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সবুর হোসেন এবং ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মঈনুল হক সিদ্দিকী। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ, এনডিসি, পিএসসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) খন্দকার জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পূর্ণতা রায়। এ সময় ডেসকো, আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর এবং ফাইবার অ্যাট হোমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে এবং দেশের টেকসই জ্বালানি উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে ডেসকোর ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর

