আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স বনাম পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল: কে কোথায় এগিয়ে?
অ্যাপলের আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ও গুগলের পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল—দুই ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনেরই প্রারম্ভিক দাম ১ হাজার ২৯৯ ডলার। উভয় মডেলের বেস ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ২৫৬ জিবি স্টোরেজ।
বড় OLED ডিসপ্লে, ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা, ম্যাগনেটিক ওয়্যারলেস চার্জিং, IP68 সুরক্ষা ও আধুনিক কানেক্টিভিটির মতো বেশ কিছু ফিচারে মিল থাকলেও প্রসেসিং ক্ষমতা, জুম, ব্যাটারি, চার্জিং ও সফটওয়্যার অভিজ্ঞতায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।
ডিসপ্লে ও ডিজাইন
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে রয়েছে ৬.৯ ইঞ্চির OLED ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন ২ হাজার ৮৬৮ × ১ হাজার ৩২০ পিক্সেল। পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলে রয়েছে ৬.৮ ইঞ্চির Super Actua OLED ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন ২ হাজার ৯৯২ × ১ হাজার ৩৪৪ পিক্সেল।
দুই ফোনেই রয়েছে সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ অ্যাডাপটিভ রিফ্রেশ রেট ও Always-On Display।
উজ্জ্বলতার দিক থেকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল এগিয়ে। এর সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৩ হাজার ৬০০ নিটস, যেখানে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৩ হাজার নিটস।
দুই ফোনেই অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম, স্টেরিও স্পিকার, IP68 ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স, Wi-Fi 7, Bluetooth 6, Ultra Wideband এবং USB-C পোর্ট রয়েছে।
ম্যাগনেটিক ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও দুই ফোনই সর্বোচ্চ ২৫ ওয়াট চার্জিং সমর্থন করে। আইফোনে রয়েছে MagSafe এবং পিক্সেলে PixelSnap।
পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য
দুই ফোনের অন্যতম বড় পার্থক্য তাদের প্রসেসর।
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে রয়েছে অ্যাপলের A20 Pro চিপ। অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলে ব্যবহার করা হয়েছে গুগলের Tensor G6 প্রসেসর।
BGR-এর উদ্ধৃত Geekbench 6 পরীক্ষায় আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স সিঙ্গেল-কোরে ৪ হাজার ৭৩৫ এবং মাল্টি-কোরে ১২ হাজার ৫৪৫ স্কোর করেছে। পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলের স্কোর যথাক্রমে ২ হাজার ৬৯১ ও ৭ হাজার ২০৩।
বেঞ্চমার্ক বাস্তব ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি তুলে ধরে না। তবে এই পরীক্ষায় দুই ফোনের কাঁচা প্রসেসিং ক্ষমতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান দেখা যায়।
ক্যামেরা ও জুম
দুই ফোনেই তিনটি করে রিয়ার ক্যামেরা রয়েছে, যার মধ্যে আলট্রাওয়াইড ও টেলিফটো ক্যামেরা রয়েছে। তবে জুম প্রযুক্তিতে রয়েছে বড় পার্থক্য।
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের ৪৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা ৪ গুণ অপটিক্যাল জুম, ৮ গুণ অপটিক্যাল-কোয়ালিটি জুম এবং সর্বোচ্চ ৪০ গুণ ডিজিটাল জুম সুবিধা দেয়।
অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলের ৪৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরায় রয়েছে ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম। গুগলের AI-নির্ভর Pro Zoom প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি সর্বোচ্চ ১২০ গুণ পর্যন্ত জুম করতে পারে।
অর্থাৎ, দূরের বিষয়কে অনেক বেশি জুম করার ক্ষেত্রে পিক্সেলের সক্ষমতা বেশি। তবে অতিরিক্ত জুমে AI-নির্ভর প্রসেসিংয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ে।
ম্যানুয়াল ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আইফোনে অ্যাপারচার, শাটার স্পিড ও হোয়াইট ব্যালান্স নিয়ন্ত্রণের মতো সুবিধা রয়েছে।
ব্যাটারি ও চার্জিং
অ্যাপলের দাবি, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স সাধারণ ব্যবহারে সর্বোচ্চ ৩০ ঘণ্টা এবং ভিডিও প্লেব্যাকে সর্বোচ্চ ৪৫ ঘণ্টা ব্যাকআপ দিতে পারে।
গুগলের দাবি, পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল একবার চার্জে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় চলতে পারে।
BGR-এর পরীক্ষায় আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স প্রায় ২৫ ঘণ্টার ব্যবহারে ৮ ঘণ্টার বেশি Screen-on Time দিয়েছে। অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল সাধারণ ব্যবহারে প্রায় ৭ ঘণ্টা Screen-on Time দিয়েছে।
তবে তারযুক্ত চার্জিংয়ে পিক্সেল এগিয়ে। ৪৫ ওয়াটের চার্জার ব্যবহার করলে ফোনটি প্রায় ৩০ মিনিটে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হতে পারে।
সফটওয়্যার ও AI
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে রয়েছে iOS 27, আর পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল চলে Android 17-এ।
দুই ফোনেই রয়েছে বিভিন্ন AI-ভিত্তিক ফিচার। অ্যাপলের ক্ষেত্রে Siri AI এবং গুগলের ক্ষেত্রে Gemini গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
Gemini-নির্ভর ফিচারের বৈচিত্র্য পিক্সেলে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে অ্যাপলের বড় সুবিধা হলো iPhone, Mac, iPad ও Apple Watch-এর মতো ডিভাইসগুলোর মধ্যে সমন্বিত ইকোসিস্টেম।
এক নজরে পার্থক্য
বিষয় iPhone 18 Pro Max Pixel 11 Pro XL
প্রারম্ভিক দাম $1,299 $1,299
স্টোরেজ 256GB 256GB
ডিসপ্লে 6.9" OLED 6.8" Super Actua OLED
সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা 3,000 নিটস 3,600 নিটস
প্রসেসর A20 Pro Tensor G6
টেলিফটো জুম 4x অপটিক্যাল 5x অপটিক্যাল
সর্বোচ্চ জুম 40x ডিজিটাল 120x পর্যন্ত
ম্যাগনেটিক ওয়্যারলেস চার্জিং 25W 25W
তারযুক্ত চার্জিং — 45W
অপারেটিং সিস্টেম iOS 27 Android 17
AI Siri AI Gemini
কোন ব্যবহারকারীর জন্য কোনটি?
দুই ফোনের লক্ষ্য ও ব্যবহারের ধরন কিছুটা আলাদা। শক্তিশালী প্রসেসিং, Apple-এর ডিভাইস ইকোসিস্টেম ও ম্যানুয়াল ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিলে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের বৈশিষ্ট্যগুলো বেশি প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
অন্যদিকে বড় জুম ক্ষমতা, দ্রুত তারযুক্ত চার্জিং এবং Gemini-ভিত্তিক AI ফিচারকে গুরুত্ব দিলে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল আকর্ষণীয় হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত পছন্দটি নির্ভর করবে ব্যবহারকারীর অপারেটিং সিস্টেমের পছন্দ, ক্যামেরা ব্যবহারের ধরন, অন্যান্য ডিভাইসের সঙ্গে ইকোসিস্টেম এবং চার্জিংয়ের প্রয়োজনের ওপর।
সূত্র: সামা টিভি
-স্বাধীন/এস
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স বনাম পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল: কে কোথায় এগিয়ে?

