আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে সরবরাহ শুরু
কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট আবারও চালু হয়েছে। ফলে এখন কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
রোববার দুপুর ২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বাড়িয়ে ৭৫০ মেগাওয়াটে নেওয়া হবে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে কেন্দ্রটির দুই ইউনিট মিলিয়ে ঘণ্টায় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল।
একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।
এর আগেও কয়লা সরবরাহের সংকটে কেন্দ্রটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। ঝড়ের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে কয়লা সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। পরে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়তে থাকলে কেন্দ্রটির উৎপাদনও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।
দিনের সময়ে কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল।
আদানি কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকার সময় দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও চাপের মধ্যে ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ ছিল প্রায় ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট।
সেদিন গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ২ হাজার ৬৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কেনার জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চুক্তি করে। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে।
দুটি ইউনিটই চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
-স্বাধীন/এমএ
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে সরবরাহ শুরু

