লোহিত সাগরের আরও দুই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিল হুথিরা
দক্ষিণ লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরও দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তা ও হুথি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথটির ওপর হুথিদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো হলো।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, সরকারি দুই কর্মকর্তা ও এক হুথি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, গ্রেটার হানিশ ও লেসার হানিশ দ্বীপে হুথি যোদ্ধাদের মোতায়েন করা হয়েছে। দ্বীপ দুটি বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র কয়েকশ সেনা দ্বীপপুঞ্জ থেকে সরে যাওয়ার পর সেখানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে হুথিরা। এর আগে গত সপ্তাহে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ভেতরে থাকা বন্দরনগরী মোখা ও মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নেয় তারা। মায়ুন দ্বীপটি পেরিম নামেও পরিচিত এবং এটি বাব আল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ অংশে অবস্থিত।
সাম্প্রতিক এসব দখলের ফলে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব ঘিরে হুথিদের সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালি এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্বের বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে।
রোববার সংঘাত আরও তীব্র হয়। লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় ইরান-সমর্থিত হুথিদের লক্ষ্য করে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হামলা চালায়। এর জবাবে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলা চালায় হুথিরা। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি আরব।
হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রার মধ্যে লোহিত সাগর উপকূলে আরও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেন সরকার। তবে সরকারি এক কর্মকর্তা মোখা বন্দরনগরী ও বাব আল-মান্দেবের একটি দ্বীপ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়াকে ‘বেদনাদায়ক’ পরাজয় হিসেবে স্বীকার করেছেন।
এদিকে হুথিদের অগ্রযাত্রায় আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। পাশাপাশি বিকল্প ও দীর্ঘ নৌপথ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লে পরিবহন ব্যয় ও পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইয়েমেনে নতুন করে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে মানবিক পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাবে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে দেশটিতে সংঘাতের কারণে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ৮২ হাজারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৪ সাল থেকে চলা ইয়েমেনের দীর্ঘ সংঘাত কয়েক বছর ধরে তুলনামূলকভাবে স্থবির থাকলেও সাম্প্রতিক হুথি অগ্রযাত্রায় পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। মোখা, মায়ুন ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জসহ লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যেও উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
-স্বাধীন/এমএ
লোহিত সাগরের আরও দুই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিল হুথিরা

