বিগত ১৭ বছর শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল ও ধ্বংস করে জাতির মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রগতির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখার লক্ষ্যেই শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি আয়োজিত ‘এসএসসি কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।
রিজভী বলেন, ‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু বিগত ১৭ বছরে সেটিকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে পরিণত করা হয়েছে। পরীক্ষা না দিয়েও কিংবা খাতায় শুধু প্রশ্ন লিখে রেখেও ওপর মহলের নির্দেশে পাস করিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি আরও বলেন, এভাবে বেশি নম্বর দেওয়া কিংবা পাস করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি বা জাতি কারওই প্রকৃত কল্যাণ হয় না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার মানের পরিবর্তে শুধু ফলাফলনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল না পাওয়া বা পিছিয়ে পড়ার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতারই এটি প্রতিফলন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নারী শিক্ষার প্রসারে বিএনপির বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, নারী ক্ষমতায়নের প্রধান শর্ত শিক্ষা। তাঁর দাবি, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাত্রীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন।
তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিএ ও অনার্স পর্যন্ত ছাত্রীদের পড়াশোনার খরচ থাকবে না এবং তা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হবে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রিজভী আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকের এই অর্জন তোমাদের জীবন অধ্যায়ের নতুন সূচনা। সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেম নিয়ে তোমাদের আগামী দিনের বাংলাদেশের কাণ্ডারি হতে হবে।’
তিনি বলেন, ঢাকা-৩ আসনের শিক্ষার্থীরা শুধু দেশেই নয়, বিশ্বদরবারেও নিজেদের মেধা ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে কেরানীগঞ্জের নাম উজ্জ্বল করবে এটাই তাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-৩ আসনের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, কৃতী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
-স্বাধীন/এমএ
বিগত ১৭ বছর শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে: রিজভী

