পুলিশের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে গাজী নজরুলের এমপি পদ: স্পিকার
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থাকবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তার বিরুদ্ধে পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপের ওপর। তবে শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তিনি এ তথ্য জানান।
গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে স্পিকার বলেন, তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী সংসদে চিঠি দিয়েছে। তবে কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয় না। কোনো এমপি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হয়।
গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, এখন পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটি তারা দেখছেন। পুলিশের নেওয়া ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হবে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার এবং পদে থাকার বিভিন্ন যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ড হলে এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর না পেরোলে ওই ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার বা পদে থাকার অযোগ্য হবেন।
অন্যদিকে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো এমপিকে দল বহিষ্কার করলে তার ক্ষেত্রে কী হবে, তা সংবিধানে সরাসরি উল্লেখ নেই।
সংবিধানে আরও বলা হয়েছে, কোনো সংসদ সদস্য ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অযোগ্য হয়েছেন কি না কিংবা ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আসন শূন্য হবে কি না—এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে বিষয়টি শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনা ও আলোচনার মধ্যে গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।
বিষয়টি স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে চিঠিও দেয় দলটি। তবে এখনো গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে।
এরই মধ্যে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছেন গাজী নজরুল ইসলাম।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মরিয়মের বাবা মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন গাজী নজরুল। এক দিনের রিমান্ড শেষে তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাকে সংসদীয় কমিটিতে না রাখার জন্য সরকারি দলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। পরে তাকে দুটি সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়।
তবে ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তার নাম রাখা হয়েছিল। পরে জামায়াতের আপত্তির পর তার নাম বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
সেদিন সংসদে এ বিষয় নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংবিধান অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হয় না। তিনি নিজে পদত্যাগ না করলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে না।
-স্বাধীন/এমএ
পুলিশের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে গাজী নজরুলের এমপি পদ: স্পিকার

