নবম পে স্কেলের ভেটিং সম্পন্ন, বিকেল প্রজ্ঞাপন জারি
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জারি হতে পারে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকেল ৩টার দিকে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে। তবে মূল বেতন একবারে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন পে স্কেলেও সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রায় সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগীও নতুন কাঠামোর আওতায় সুবিধা পাবেন।
মূল গেজেটের পাশাপাশি বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বিজিবি, সশস্ত্র বাহিনী, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক এসআরও জারি করা হবে।
প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর আইবাস++-এ নতুন বেতন কাঠামো যুক্ত করা এবং বেতন পুনর্নির্ধারণের কাজ শুরু হবে। এরপর বেতন ফিক্সেশন ও বকেয়া পাওনা সমন্বয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী, প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব গ্রেডে আগের তুলনায় মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করে। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।
কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতায় পরিবর্তনের সুপারিশও করা হয়েছিল।
পরে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়।
এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আজ বিকেল ৩টার দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হতে পারে।
-স্বাধীন/এমএ
নবম পে স্কেলের ভেটিং সম্পন্ন, বিকেল প্রজ্ঞাপন জারি

