গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়েই নিউইয়র্ক সফর নেতানিয়াহুর

প্রকাশঃ Sep 25, 2026 - 15:18
গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়েই নিউইয়র্ক সফর নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সংক্ষিপ্ত সফর করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে তিনি নিউইয়র্কে আট ঘণ্টারও কম সময় অবস্থান করেন।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর বিমান গ্রিস, ইতালি ও ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার করে নিউইয়র্কে পৌঁছায়। তিন দেশই আইসিসির সদস্য। আইসিসির পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ওপর তাদের নিজস্ব আইন ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী দায়িত্ব রয়েছে।

তবে ফ্রান্স জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইন লঙ্ঘন হয়নি। দেশটির বক্তব্য, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে আকাশসীমা দিয়ে বিমানের ট্রানজিটের বিষয়ে এমন কোনো স্পষ্ট বিধান নেই, যা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

নিউইয়র্কে গ্রেফতারের প্রশ্ন

নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে শহরটির মেয়র নেতানিয়াহু সেখানে গেলে তাকে গ্রেফতার করার কথা বলেছিলেন। তবে পরে তিনি জানান, নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করার আইনগত ক্ষমতা তার নেই।

নিউইয়র্কে পৌঁছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের যে অভিযোগ রয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করে তিনি সমালোচকদের বক্তব্যকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।

তার বক্তব্যের সময় কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। পরে নেতানিয়াহু তাদের সমালোচনা করেন।

আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। এরপর ইসরাইলের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আইসিসি ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের অভিযোগের মধ্যে গাজায় বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা এবং খাদ্যকে যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তবে নেতানিয়াহু ও ইসরাইল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই। ফলে আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ভিন্ন অবস্থান

ইসরাইল আইসিসির সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ার ও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও আইসিসির সদস্য নয়। ট্রাম্প প্রশাসন আদালটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং আইসিসির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ অবশ্য আইসিসির সদস্য এবং আদালতের কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা কার্যকর করা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থানও এ কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।


-স্বাধীন/এস

গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়েই নিউইয়র্ক সফর নেতানিয়াহুর
লোগো
Sep 25, 2026

গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়েই নিউইয়র্ক সফর নেতানিয়াহুর

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta