জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সচিবের অগ্রযাত্রা
জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, স্বাস্থ্য খাতের সেবার মান আরও উন্নত করা এবং একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্য প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জনের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বে যোগ দিয়ে তিনি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কাজ করার সুবাদে মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত তাঁর রয়েছে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা।
স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে পদায়নের ঠিক আগে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে সরকারি প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
এর আগে ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে তিনি বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি জনসেবা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন। একই সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ছিল তাঁর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত দায়িত্ব।
প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। মাঠ প্রশাসনের বাস্তবতা, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এবং সরকারি সেবা প্রদানের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তাঁর রয়েছে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। ফলে স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্বাস্থ্য খাত দেশের মানুষের জীবন ও কল্যাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এই খাতে দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সেবার মানোন্নয়ন এবং জনগণের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য, কার্যকর ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রশাসনের কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা দুই জায়গাতেই কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণে তাঁর অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাপনাকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্যসেবা। সেই সেবা যাতে মানুষের কাছে আরও সহজে এবং যথাযথভাবে পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য প্রশাসনে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য খাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।
জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সচিবের অগ্রযাত্রা

