ট্রলারসহ ৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
টেকনাফে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে তিন বাংলাদেশি জেলেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাফ নদীর মোহনা ও বঙ্গোপসাগরের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
আটক জেলেরা হলেন, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া এলাকার লেডা মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০), একই এলাকার মমতাজ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল (২৭)। অপর জেলের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া নৌঘাট কমিটির সভাপতি আব্দুল গণি জানান, শনিবার সকালে ওই তিন জেলে নাফ নদীতে মাছ ধরতে যান। পরে আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে এসে তাদের ট্রলারটি ধাওয়া করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এর আগেও একই এলাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, নাফ নদী ও সাগরে মাছ শিকার এখন জেলেদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জীবিকার তাগিদে সাগরে যেতে হলেও প্রতিনিয়ত আরাকান আর্মির আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। সুযোগ পেলেই তারা স্পিডবোটে এসে অস্ত্রের মুখে জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়।
বোট মালিক সমিতির সভাপতি আবদু রশিদ বলেন, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর সেন্টমার্টিন সফর ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে ১৬ জন সাংবাদিক, এনজিও কর্মী ও কোস্টগার্ড সদস্য একটি ট্রলারে করে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে নাফ নদীর নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় পৌঁছালে বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার সময় দুটি মাছ ধরার ট্রলারকে আরাকান আর্মির দুটি স্পিডবোট ধাওয়া করে।
এর মধ্যে একটি ট্রলারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আরাকান আর্মির সদস্যরা নিয়ে যায়। অপর ট্রলারটি তাদের ধাওয়া থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয় বলে জানান তিনি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, তিন জেলেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর তিনি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি নিয়ে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আটক জেলেদের ফেরত আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশে মাছ ধরতে গিয়ে এভাবে বারবার আটক হওয়ার ঘটনায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক জেলেই এখন সাগরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মাছ ধরা হলেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন তারা।
ট্রলারসহ ৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

