রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশঃ Aug 23, 2026 - 16:57
রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নীতি গবেষণাকেন্দ্র আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সরকার যেভাবে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নিয়েছিল, সেই পথেই এগিয়ে যেতে হবে। তিনি প্রত্যাশা করেন, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত হবে এবং তারা নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেভাবে রোহিঙ্গা সংকটকে দেখছে, বাংলাদেশও বিষয়টিকে একইভাবে বিবেচনা করছে। এটি মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। তাই তাদের অধিকার রক্ষায় দেশটির সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে রোহিঙ্গারা দেশটির ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীতে রোহিঙ্গা ইস্যু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, পরবর্তী সরকারগুলো একইভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা করা প্রয়োজন। তবে এর আগে দেশের জনগণকে বিষয়টি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সব বিভেদ ভুলে দেশের মানুষকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টি সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের স্বার্থে যে কোনো বিষয়ে মোকাবিলা করতে হলে সেটিকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অংশ হিসেবেই দেখতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। দেশের প্রতি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের দায়িত্বের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। আর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নীতির ক্ষেত্রে কীভাবে বিষয়গুলো মোকাবিলা করা হবে, তার দিকনির্দেশনা রয়েছে ২৫ অনুচ্ছেদে।

আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশ মূলত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে। তাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে বিষয়টি বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের কোনো আন্তর্জাতিক বিরোধে পরিণত হয়নি।

তিনি বলেন, এটি মূলত মানবাধিকারের বিষয়। মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকেই বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের আলোকে এটিকে বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেও দেখা যায়। তাই রোহিঙ্গা ইস্যুকে জাতীয় ঐকমত্যের জায়গায় নিয়ে আসা গেলে তা সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছেন। সংকটটি কীভাবে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে কমিটি কাজ করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার যাতে কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সেদিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বাড়তে থাকা হত্যা, সহিংসতা ও অপরাধের প্রবণতাও মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সামাজিক চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন ও পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।

আয়োজকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তাদের চিন্তা ও সুপারিশগুলো জাতীয় কমিটির কাছে তুলে ধরতে হবে। বিভিন্ন পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাংলাদেশ হস্তক্ষেপ করতে চায় না। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয়। কারণ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়; তারা মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী এবং মানুষ হিসেবে তাদের মৌলিক মানবাধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, সংস্কৃতি ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের দিক থেকেও রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ওই অঞ্চলের অধিবাসী। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের নির্দিষ্ট সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে কাজ করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য প্রফেসর এস কে তৌফিক এম. হক, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. শাকিল আহম্মেদ, রোহিঙ্গা নারী অধিকারকর্মী রাজিয়া সুলতানাসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

-স্বাধীন/ এমএ

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: আইনমন্ত্রী
লোগো
Aug 23, 2026

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: আইনমন্ত্রী

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta