খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

প্রকাশঃ Aug 23, 2026 - 01:53
খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। মালয়েশিয়া সরকারের অনলাইনভিত্তিক কেন্দ্রীয় অভিবাসী কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউএমএস)—এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। 

এ তালিকা প্রকাশের ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র জনশক্তি প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আগের ঘোষণা কার্যকর থাকবে কি না। প্রতিবেদন বিবিসির। 

যদিও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বোয়েসেলই পুরো প্রক্রিয়ায় কাজ করবে। একই সঙ্গে দেশের সব রিক্রুটিং এজেন্সিরই কর্মী পাঠানোর সুযোগ থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এর আগে গত ৩০ জুলাই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে গেছে’। তিনি জানিয়েছিলেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যাওয়া শুরু হতে পারে।

কুয়ালালামপুরের ওই সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন আরও বলেছিলেন, প্রথম ধাপের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি মালিকানাধীন জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতেই তিনি বলেন, ‘আমরা মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছি যেন প্রথম ধাপের নিয়োগপ্রক্রিয়াটি বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।’

এর কয়েক সপ্তাহ পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) মালয়েশিয়া সরকারের এফডব্লিউএমএসে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম তালিকাভুক্ত করে প্রকাশ করা হয়। ফলে বোয়েসেলকে অগ্রাধিকার দেয়ার আগের ঘোষণার সঙ্গে নতুন তালিকার সম্পর্ক কী, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারের জন্য মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য। জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শীর্ষ গন্তব্যগুলোর মধ্যে দেশটির অবস্থান চতুর্থ। তবে বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই খাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের মে মাসের শেষে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয়া হয়। এর ফলে সে সময় ছুটিতে দেশে আসা অনেক বাংলাদেশি কর্মীও আর মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি।

এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

বাংলাদেশে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মী পাঠানোর যাত্রা শুরু হয়। এর দুই বছর পর, ১৯৭৮ সালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে প্রথম বাংলাদেশি কর্মীরা পা রাখেন। ওই বছর মাত্র ২৩ জন শ্রমিকের মালয়েশিয়া যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসনের যাত্রা শুরু হয়।

এরপর কয়েক দশকে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজারে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ১৪ লাখের বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছেন। বিভিন্ন দেশে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের মোট সংখ্যার মধ্যে মালয়েশিয়ায় যাওয়া কর্মীর হার ৯ শতাংশেরও বেশি।

তবে বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের কাছে মালয়েশিয়া একটি ‘আনস্টেবল মার্কেট’ বা অনিশ্চিত শ্রমবাজার হিসেবেও পরিচিত হয়ে উঠেছে।

এসটিআর

খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
লোগো
Aug 23, 2026

খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta