ঢাকার শিল্পকারখানায় বাড়ছে ভোলার গ্যাসের চাহিদা

প্রকাশঃ Aug 29, 2026 - 17:55
ঢাকার শিল্পকারখানায় বাড়ছে ভোলার গ্যাসের চাহিদা

ঢাকা ও আশপাশের এলাকার শিল্পকারখানা সচল রাখতে ভোলা থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭টি কাভার্ডভ্যান ও ট্যাংকারে করে ভোলার গ্যাস ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৩০টি শিল্পকারখানায় এই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট (আড়াই থেকে ৩ মিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস এভাবে ঢাকায় যাচ্ছে। ভোলার গ্যাস সিএনজি আকারে ট্যাংকারে পরিবহণের পর ঢাকায় ডিকম্পোজিট করে শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ট্যাংকার সংকটের কারণে বর্তমানে পুরো সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী অলিউর রহমান বলেন, এভাবে প্রতিদিন ভোলা থেকে আড়াই থেকে ৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঢাকায় যাচ্ছে।

সুন্দরবন কোম্পানির খুলনা জোনের ডিজিএম মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত মঙ্গলবার ২ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ঘনফুট, বুধবার ২ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বৃহস্পতিবার ২ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সিএনজি করা হয়েছে। পরে এসব গ্যাস ট্যাংকারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

ইন্ট্রাকোর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আব্বাস বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস নেওয়া যাচ্ছে না। প্রায় এক মাস ধরে তারা নিয়মিত গ্যাস সংগ্রহ করছেন। বর্তমানে ৩৪টি কাভার্ড ট্যাংকার দিয়ে গ্যাস পরিবহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭টি ট্যাংকার ভোলা থেকে ঢাকায় যায় এবং গ্যাস খালাসের পর আবার ভোলায় ফিরে আসে।

তবে স্থানীয় গ্যাস আন্দোলনের দক্ষিণাঞ্চলীয় কমিটির সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ বলেন, ইন্ট্রাকো দীর্ঘদিন ধরেই ভোলা থেকে গ্যাস নিচ্ছে। তবে গত মাস থেকে তারা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গ্যাস নিচ্ছে। তার দাবি, ভোলা জেলা শহরে আবাসিক গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পর অবশিষ্ট গ্যাস ঢাকায় নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি।

ইন্ট্রাকোর তথ্য অনুযায়ী, ভোলা থেকে সরবরাহ করা গ্যাস ব্যবহার করছে এসিআই সল্ট, আকিজ টেক্সটাইল, স্কয়ার নিট কম্পোজিট লিমিটেড, স্কয়ার গ্রুপ, ফকির ফ্যাশন, এনজেড গ্রুপ, বেক্সিমকো লিমিটেড, গোমতি টেক্সটাইল, আসওয়াদ কম্পোজিট মিলস লিমিটেড, আল-মুসলিম, আরকে নিট, ব্লু ক্রিয়েশন, প্রতীক সিরামিকস ও এবিআর স্পিনিং মিলস লিমিটেডসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

সূত্র জানায়, নতুন করে আরও ১৪টি কোম্পানি এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন শিল্পকারখানা গ্যাসের জন্য যোগাযোগ করছে। তবে ট্যাংকার সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সুন্দরবনের ডিজিএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ১৭ টাকা দরে কিনে ইন্ট্রাকো তা শিল্পকারখানায় ৪৮ টাকা দরে বিক্রি করছে। ভোলার মজুত গ্যাস সিএনজি করে ট্যাংকারে পরিবহণ করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পর ডিকম্পোজিট করে সেই গ্যাস শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইন্ট্রাকোর সঙ্গে সুন্দরবন গ্যাসের একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি এখনো বহাল রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস নিতে পারবে। স্থানীয়দের কেউ কেউ এই চুক্তিকে ‘অসম চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জ্বালানি উপদেষ্টা ফয়জুল করিম খান প্রথম দিকে ওই চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে পরে অজ্ঞাত কারণে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। এর কিছুদিন পর আবারও ভোলা থেকে গ্যাস নেওয়া শুরু করে ইন্ট্রাকো।

এদিকে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট থেকে কার্নিভালক্রুজ ও কার্নিভাল ওয়েব নামে দুটি যাত্রীবাহী ফেরিতে প্রতিদিন সাতটি করে মোট ১৪টি গ্যাসভর্তি কাভার্ড ট্যাংকার পরিবহণ করা হচ্ছে। এর বাইরে আরও দুই থেকে তিনটি ট্যাংকার সড়কপথে ঢাকার দিকে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, বিস্ফোরক আইন অনুযায়ী যাত্রীবাহী পাবলিক পরিবহণ বা ফেরিতে গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহণের অনুমতি নেই। সেই বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই প্রতিদিন দুটি যাত্রীবাহী ফেরিতে গ্যাসবাহী ট্যাংকার পরিবহণ করা হচ্ছে। কার্নিভাল ওয়েব দুপুর দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। আর কার্নিভালক্রুজ বিকেল ৫টায় যাত্রা করে।

তবে ইন্ট্রাকোর প্রকল্প ব্যবস্থাপক জানান, তাদের গাড়ি ও গ্যাসবাহী ট্যাংকারগুলো বিস্ফোরক আইনের আওতায় সনদপ্রাপ্ত। এসব অনুমোদিত ট্যাংকারেই গ্যাস পরিবহণ করা হচ্ছে। ট্যাংকারের সংখ্যা বাড়ানো গেলে ভোলা থেকে আরও বেশি গ্যাস ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হবে।

-স্বাধীন/এমএ

ঢাকার শিল্পকারখানায় বাড়ছে ভোলার গ্যাসের চাহিদা
লোগো
Aug 29, 2026

ঢাকার শিল্পকারখানায় বাড়ছে ভোলার গ্যাসের চাহিদা

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta