আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য সরকারের: বাণিজ্যমন্ত্রী
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে সরকার ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীতে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৩০ বছরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে অ্যামচ্যাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংগঠনটি কেবল ব্যবসায়ীদের একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের সেতু হিসেবেও কাজ করছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি দেশের জাতীয় রাজস্বের ২০ শতাংশেরও বেশি তাদের মাধ্যমে আসে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি মার্কিন ব্যবসায়ীদের আস্থার বিষয়টি এসব বিনিয়োগে প্রতিফলিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি অ্যামচ্যামের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের কোনো বাস্তব সমস্যা সরকারের কাছে তুলে ধরা হলে তা সমাধানে তার মন্ত্রণালয় ও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এ প্রসঙ্গে অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠান ‘কর্টেভা বাংলাদেশ’-এর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স-সংক্রান্ত জটিলতা সরকারের উদ্যোগে এক মাসের মধ্যেই সমাধান করা হয়েছে।
বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৌশলগত অবস্থান, তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি, বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে দেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য শুধু সম্ভাবনা থাকলেই হবে না বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তার মতে, বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতির পূর্বানুমেয়তা, সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ, কার্যকর বাণিজ্য সুবিধা এবং স্থিতিশীল নীতিগত কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করা, ডিজিটাল সেবা বাড়ানো, বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের পরবর্তী অধ্যায়ে আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশে আরও মার্কিন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক দক্ষতা যুক্ত হবে এবং বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এসব লক্ষ্য অর্জনে সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ, বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং অ্যামচ্যামের মতো সংগঠনগুলোর মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্ব প্রয়োজন।
অ্যামচ্যামের ৩০ বছর পূর্তিকে ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আরও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানান তিনি এবং ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।
এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন আজাদ, সংগঠনটির সাবেক সভাপতিরা, কার্যনির্বাহী কমিটির বর্তমান ও সাবেক সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
-স্বাধীন/এমএ
আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য সরকারের: বাণিজ্যমন্ত্রী

