নিখোঁজের ১৮ মাস পর কিশোরীর লাশের সন্ধান, প্রেমিকের স্বীকারোক্তি
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ কিশোরী মোছা. নিঝুম খাতুনের গলিত লাশের সন্ধান মিলেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিমের (২৩) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশটি শনাক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন জিম। একইদিন রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এখলাচ হোসেন।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন ১৭ বছর বয়সী নিঝুম খাতুন। এ ঘটনায় তার মা মোছা. তাসলিমা খাতুন বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে তিনি অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ ১৮ মাস পর নিঝুমের প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিমকে আটক করে পুলিশ। জিম উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের মো. কামাল হোসেনের ছেলে। আটকের পর ২০ সেপ্টেম্বর তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জিম নিঝুমের লাশের সন্ধান দেন। জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে তিনি জানান, পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনের কাছে নিঝুমকে হত্যা করেছেন তিনি।
পরে জিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তাকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদী থানার পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় যায় এবং ঘটনাস্থল শনাক্ত করে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নিঝুমের অর্ধগলিত লাশ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ দুপুরে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে উদ্ধার করেছিল। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়।
পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় লাশটি দাফন করা হয়। পরে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম সিআইডির ক্রাইম সিন এক্সপার্টদের আর্কাইভে সংরক্ষিত অর্ধগলিত কিশোরীর ছবি সংগ্রহ করে। ছবিতে থাকা পোশাক দেখে জিম লাশটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, জিমের সঙ্গে নিঝুমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১৩ মার্চ ২০২৫ বেড়ানোর কথা বলে নিঝুমকে পাবনার ঈশ্বরদী থানাধীন পাকশী রেলস্টেশনে নিয়ে যান জিম। সেখানে ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে তারা জনশূন্য পাকশী রেললাইনের পাশে একটি প্ল্যাটফর্মে বসে সময় কাটাচ্ছিলেন।
এ সময় নিঝুম জিমকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিম রাগান্বিত হয়ে নিঝুমকে সজোরে থাপ্পড় মারেন বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, থাপ্পড়ের পর নিঝুম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর জিম তাকে টেনে-হিঁচড়ে রেললাইনের নিচে একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে নিঝুমের পরিহিত ওড়না দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে এবং মাথার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন জিম।
মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে জঙ্গলের পাশে নির্জন স্থানে রেখে ট্রেনে করে নিজ গ্রামে ফিরে যান জিম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জিমকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে কিশোরী নিঝুম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
মামলাটির তদন্ত করছেন মহেশপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হিমানিষ।
-স্বাধীন/এস
নিখোঁজের ১৮ মাস পর কিশোরীর লাশের সন্ধান, প্রেমিকের স্বীকারোক্তি

