দুই মাসেই ২৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

প্রকাশঃ Sep 24, 2026 - 15:26
দুই মাসেই ২৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। আগের অর্থবছরের প্রকৃত আদায়ের তুলনায় এ লক্ষ্য প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি। তবে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই রাজস্ব আদায়ে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআর প্রকৃতপক্ষে প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের প্রকৃত আদায়ের চেয়ে প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কখনো ২৭ শতাংশের বেশি হয়নি। ফলে প্রায় ৪৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির এই লক্ষ্যকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এত বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিপরীতে সাম্প্রতিক রাজস্ব আদায়ের চিত্রও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। এনবিআরের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ভ্যাট আদায় কমেছে। আগস্টেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এ দুই মাসে সব মিলিয়ে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে বলে প্রাথমিক হিসাবে জানা গেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। অর্থমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যের ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল।

এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এনবিআরের রাজস্ব আদায় ১৪ শতাংশ বাড়লেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়েছিল।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জটিলতা রয়েছে। একদিকে সরকারকে বেতন-ভাতা ও পেনশনের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানি খাতে লোকসান ও ভর্তুকির চাপ সামলাতে হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয়সহ অন্যান্য সরকারি ব্যয় মেটানোর জন্যও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সরকারের ব্যয়ের চাপ যেভাবে বাড়ছে, তার সঙ্গে আয় বৃদ্ধি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাজস্ব আদায়ে এখন ঘাটতি রয়েছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাও কাটছে না।’

তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সামনে আরও কঠিন সমীকরণের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। অর্থনীতি এমনিতেই কঠিন সময় পার করছে। এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এ পরিস্থিতি সামনে আরও কত সময় দীর্ঘায়িত হবে। সেটাই এখন ভাববার বিষয়। সে অনুযায়ীই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’

ড. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘সরকারের সর্বস্তরের ব্যয়ে আরও সংকোচন দরকার। বাধ্য হয়ে ভর্তুকি কমাতে হচ্ছে। কিন্তু এর ফলে যে চাপ তৈরি হবে, সেটা মোকাবিলার জন্যও কৌশল থাকতে হবে। তেলের মূল্যবৃদ্ধি অনেকটা ছোঁয়াচে বিষয়। তাই এর ফলে যাতে মূল্যস্ফীতি বেশি না বাড়ে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।’

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, কিন্তু কর প্রশাসনের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিয়মিত করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে করের আওতার বাইরে থাকা যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি কর প্রদান সহজ করা এবং রাজস্ব আদায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।’

ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, এতে সরকারের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করের চাপও তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা সম্ভব হবে।

-স্বাধীন/এমএ

দুই মাসেই ২৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি
লোগো
Sep 24, 2026

দুই মাসেই ২৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta