প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়াদের ৫ দাবি, না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

প্রকাশঃ Sep 26, 2026 - 14:50
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়াদের ৫ দাবি, না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে প্রায় দেড় হাজার প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি। ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জনসম্মুখে প্রকাশসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের আন্দোলনকারী প্ল্যাটফর্ম ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের আট মাস অপেক্ষা, মানসিক চাপ ও প্রশাসনিক জটিলতার পরও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ‘ভেরিফিকেশন’-এর কথা বলে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অনেক যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তারা আরও দাবি করেন, প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রার্থীর নিয়োগপত্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইস্যু করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে প্রার্থীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া অমানবিক এবং এতে তাদের মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য প্রত্যাশার বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘ আট মাস এসব প্রার্থী অন্য চাকরির সুযোগ ছেড়ে এই নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। অনেকে আগের চাকরি ছেড়েছেন, কেউ নতুন চাকরিতে যোগ দেননি। আবার কারও বয়স এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে নতুন করে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ সীমিত বা শেষ হয়ে গেছে।

তাদের ভাষ্য, অনেক প্রার্থীর কাছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুধু চাকরি নয়, বরং স্বপ্নের পেশা ও জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। হঠাৎ নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় অনেক পরিবার আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছে। কারও উপার্জনের পথ বন্ধ হয়েছে, আবার কারও বাবা-মায়ের চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একজন নাগরিকের জীবিকা, ভবিষ্যৎ ও বহু বছরের পরিশ্রমের সঙ্গে যুক্ত এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো ধরনের অস্পষ্টতা, প্রশাসনিক ভুল বা একতরফা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়। প্রতিটি প্রার্থীর বিষয় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগতভাবে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আন্দোলনকারীরা বলেন, তারা কোনো অনিয়মকারী বা অযোগ্য ব্যক্তির নিয়োগের দাবি করছেন না। তবে প্রশাসনিক ভুল, অসম্পূর্ণ তদন্ত, তথ্যগত ত্রুটি কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের কারণে কোনো নিরপরাধ ও যোগ্য প্রার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রার্থীদের পাঁচ দাবি
১. ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুনঃযাচাইযোগ্য প্রক্রিয়ায় দ্রুত পুনরায় যাচাই করতে হবে।

২. তথ্যগত ভুল বা অসংগতির কারণে বাদ পড়া প্রার্থীদের নিজেদের নির্দোষিতা প্রমাণের সুযোগ এবং প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. কোনো দপ্তর বা কর্মকর্তার গাফিলতি, ভুল তথ্য কিংবা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনো প্রার্থী বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধন করে তার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

৪. চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ এখনো নিয়োগপত্র পাননি—এমন সব প্রার্থীর বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো অযৌক্তিক কারণে প্রক্রিয়াটি আর বিলম্বিত করা যাবে না।

৫. পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং কোন প্রক্রিয়ায় এতসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়লেন, তার সুস্পষ্ট ও দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও বহু বছরের পরিশ্রমকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। যোগ্য প্রার্থীদের প্রাপ্য নিয়োগপত্র দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

অন্যথায় বাদ পড়া প্রার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন আরও কঠোর পর্যায়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক প্রার্থীদের যেন আবার রাজপথে নামতে না হয়। রাজপথ শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্র নয়, শ্রেণিকক্ষই তাদের প্রকৃত কর্মস্থল। তাই আলোচনার মাধ্যমে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ন্যায়সংগতভাবে সংকটের সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার সর্বশেষ তথ্য
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ) অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

এরপর গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। জেলা ভিত্তিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

-স্বাধীন/এমএ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়াদের ৫ দাবি, না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
লোগো
Sep 26, 2026

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়াদের ৫ দাবি, না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta