বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্য বরদাশত করা হবে না
বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ অবসানের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও’ কর্মসূচির আগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
খোমেনী ইহসান বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো ধরনের ভারতীয় হস্তক্ষেপ বিনা প্রতিরোধে মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
ভারতীয় হাইকমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ভারতীয় হাইকমিশনারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে খোমেনী ইহসান বলেন, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনীতিকদের দায়িত্ব কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এবং আয়োজক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।
তাঁর অভিযোগ, কূটনৈতিক দায়িত্বের বাইরে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কার্যালয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও কূটনৈতিক রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। খোমেনী ইহসানের অভিযোগ, ভারত সরকার তাদের প্রত্যর্পণ না করে বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
‘বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র’
খোমেনী ইহসান বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি সার্বভৌম। এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এখানে কোনো ধরনের ভারতীয় আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
ভারতের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে খোমেনী ইহসান বলেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশে ভারতের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, সে সময় বাংলাদেশে ভারতীয় প্রভাব ছিল ব্যাপক। তবে এখন সেই পরিস্থিতি প্রতিহত করার সময় এসেছে।
তিনি বলেন, সরকার ভারতের সঙ্গে যতই ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখুক, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করবে। বাংলাদেশ কোনোভাবেই ভারতের কোনো রাজ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে যারা ছিলেন
সমাবেশে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্যসচিব ডা. নাবিল আহমদ, সহকারী সদস্যসচিব আব্দুস সালাম ও মো. সাইদুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর শওকত আমীন, মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম, নবাব সলিমুল্লাহ অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বার, শাহ নাজমুল হাসান ফেরদৌস, প্যান ইসলামী মুভমেন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া, আগ্রাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাঈন উদ্দীন এবং বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদসহ সংগঠনগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
-স্বাধীন/এস
বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্য বরদাশত করা হবে না

