ইমোতে পরিচয়, প্রেমের পর বিয়ে, অতঃপর

প্রকাশঃ Oct 2, 2026 - 16:10
ইমোতে পরিচয়, প্রেমের পর বিয়ে, অতঃপর

ইমোতে পরিচয়, প্রেমের পর বিয়ে; স্বীকৃতি ও সংসারের অধিকার চেয়ে থানায় নারী

ইমোতে পরিচয়, এরপর প্রেম ও বিয়ে। সেই সংসারে জন্ম নেয় একটি কন্যাসন্তান। ১০ মাস বয়সী শিশুকে কোলে নিয়ে স্বামীর সংসারে স্বীকৃতি ও অধিকার পেতে মাদারীপুর থেকে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এসেছেন সাথী বেগম (২৯) নামে এক নারী। তবে স্বামীর বাড়িতে এসে জানতে পারেন, তাঁকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেছেন তাঁর স্বামী সুমন মিয়া (২৮)।

বর্তমানে সুমন আত্মগোপনে রয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাথীর ভাষ্য ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে ইমোর একটি চ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে মাদারীপুরের সাথীর সঙ্গে কেন্দুয়ার সুমনের পরিচয় হয়। তখন সুমন প্রবাসে ছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তাঁরা বিয়ে করেন। পরে বিয়েটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করা হয়। তাঁদের সংসারে রাইসা মনি নামে ১০ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

সম্প্রতি সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সাথী জানতে পারেন, তাঁর স্বামী অন্যত্র বিয়ে করেছেন। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দুয়া থানায় যান তিনি এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরদিন ১ অক্টোবর থানা পুলিশের সহায়তায় সুমনের বাড়িতে পৌঁছান সাথী। তবে সেখানে গিয়ে স্বামীর দেখা পাননি তিনি।

সাথীর দাবি, স্বামীর বাড়িতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭(১) ধারা উল্লেখ করে তাঁকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন সুমন। নোটিশে ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর একটি অনুলিপি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাথীর ঠিকানাতেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাথী বলেন, “আমি গাজীপুরে থেকে বেসরকারি চাকরি করতাম। বিয়ের পর আমরা সেখানেই থাকতাম। আমি সংসার করতে চাই। আমার সন্তানকে নিয়ে স্বামীর সংসারে থাকতে চাই। সুমন অন্য কোথাও বিয়ে করে থাকলেও আমি তাকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত। আমি আমার সংসারটা টিকিয়ে রাখতে চাই।”

অভিযুক্ত সুমন মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে তাঁর মোবাইল ফোনে কল করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে সুমনের বাবা মোহাম্মদ হাদীস মিয়া বলেন, ছেলের আগের বিয়ের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। বিষয়টি আগে জানতে পারলে ছেলেকে দ্বিতীয় বিয়ে করাতেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ওই নারী থানায় এসেছিলেন। বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করা হলে ভুক্তভোগী নারীকে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।

-স্বাধীন/এস

ইমোতে পরিচয়, প্রেমের পর বিয়ে, অতঃপর
লোগো
Oct 2, 2026

ইমোতে পরিচয়, প্রেমের পর বিয়ে, অতঃপর

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta