জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে কাজ করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব, দক্ষ, গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার পাশাপাশি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সরকারি সেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করতে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম, বৈষম্য ও নানা ধরনের অস্থিরতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ছিল। পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও প্রশাসনিক কাঠামোকে স্থিতিশীল করা এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে গতি ফেরানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বর্তমানে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল, দক্ষ ও জনকল্যাণমুখী করার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় গতি ও কর্মদক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য—রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ মানুষ দ্রুত, সহজ ও কার্যকরভাবে কাঙ্ক্ষিত সরকারি সেবা পাবেন।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বাস্তবমুখী চিন্তার সমন্বয়ে তিনি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনতে কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত। প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার, সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি আনা এবং সিদ্ধান্তের কার্যকর বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর করা, কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানো এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এখন শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠাই হয়ে উঠেছে এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কর্মদক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আধুনিক, দক্ষ ও জনগণকেন্দ্রিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সরকারি সেবাকে জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিতে চলমান উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দ্রুত সেবা প্রদান এবং মাঠপর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি সেবার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে চলমান প্রশাসনিক সংস্কার ও গতিশীলতার প্রচেষ্টা সফল হলে একটি আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও আস্থাশীল প্রশাসন গড়ে উঠবে এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে কাজ করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

