সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসকসহ ৫ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা প্রত্যাহার
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি থেকে প্রশাসকসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োজিত পাঁচ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে তাদের বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) কর্মদিবস শেষে ব্যাংকটি থেকে অবমুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজ নিজ বিভাগে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার কাছে প্রশাসনিক দায়িত্ব পুরোপুরি হস্তান্তরের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদেশ অনুযায়ী, প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক মো. আবুল বাসার এবং প্রশাসকের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আহসান মোস্তফা (অপারেশন), ড. মোহাম্মদ রফিকুল করিম (অডিট), হাসান আব্দুল আলী (এইচআর) ও রঞ্জন আচার (ফাইন্যান্স)।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, এসব কর্মকর্তা ৬ আগস্ট কর্মদিবস শেষে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। পরদিন থেকে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নিজ নিজ বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন।
তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে বড় ধরনের অনিয়ম ও মালিকানা সংকটের পর ২০২৪ সালে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি ইসলামী ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়। একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষে নতুন পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ধাপে ধাপে ব্যাংকগুলোর ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি প্রশাসনিক তদারকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে এক্সিম ব্যাংক থেকেও প্রশাসক প্রত্যাহার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সর্বশেষ সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রশাসক ও সহযোগী কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের ফলে একীভূত ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা এখন স্বাভাবিক করপোরেট কাঠামোয় পরিচালনার দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসক প্রত্যাহার করা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক তদারকি বহাল থাকবে। ব্যাংকটির মূলধন পরিস্থিতি, খেলাপি ঋণ, তারল্য, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসক প্রত্যাহার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা। এর মাধ্যমে ব্যাংকটির প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা কিছুটা ফিরে এসেছে এবং স্বাভাবিক পরিচালনা ব্যবস্থায় ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এতে সংকট পুরোপুরি কেটে গেছে—এমনটি মনে করার সুযোগ নেই।
ব্যাংকটির আর্থিক পুনরুদ্ধার, খেলাপি ঋণ কমানো, মূলধন শক্তিশালী করা এবং গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধারই আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে প্রশাসক প্রত্যাহারকে পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হলেও, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
-স্বাধীন দিগন্ত/ এমএ
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসকসহ ৫ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা প্রত্যাহার

