ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ২১ অধিনায়কের চিঠি
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের চিকিৎসা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বের ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে পাঠানো এক চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
চিঠিতে সই করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব ও দিলীপ বেংসরকার, শ্রীলঙ্কার অর্জুনা রানাতুঙ্গা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড এবং ইংল্যান্ডের নাসের হুসেইনসহ ক্রিকেটের একাধিক কিংবদন্তি।
২৩ আগস্ট পাঠানো চিঠিতে সাবেক অধিনায়করা জানান, ছয় মাস আগে ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক ইমরানের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং তার যথাযথ চিকিৎসার দাবিতে পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। এবার তাদের সঙ্গে আরও সাতজন সাবেক অধিনায়ক যুক্ত হয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং তার বোন ডা. উজমা খানকে রাখতে হবে। একই সঙ্গে সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও পুনর্বহাল করেছিলেন আদালত।
কিন্তু সাবেক অধিনায়কদের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ইমরানকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গঠিত মেডিকেল বোর্ডের বদলে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়োগ করা চিকিৎসকদের একটি দল তাকে পরীক্ষা করে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করে। এরপর আদালতের নির্দেশিত বোর্ড তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করার আগেই তাঁকে আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ইমরানের পরিবার ও আইনজীবী দলের দাবি, এই প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি।
তবে চিঠিতে সাবেক অধিনায়কেরা স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা আইনি বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে চান না। তাঁদের উদ্বেগ কেবল ইমরানের স্বাস্থ্য ও মানবিক অধিকার নিয়ে।
এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীনভাবে ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা হারানোর যে খবর এসেছে, তা গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, আদালতের নির্দেশে পুনর্বহাল হওয়া সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎ যেন কোনো প্রশাসনিক জটিলতায় বন্ধ বা বিলম্বিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা যে চিকিৎসার পরামর্শ দেবেন, তা যেন দ্রুত দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ইমরানের বয়স এখন ৭৩ বছর। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু আদালতের নির্দেশে একজন বন্দির চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া কোনো বিতর্কিত দাবি নয়— এটি ন্যূনতম মানবিকতার বিষয়।
সাবেক অধিনায়কদের আশা, বিষয়টির দ্রুত সমাধান হবে এবং ইমরান খান তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা ও মানবিক আচরণ পাবেন।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন মাইকেল আথারটন, অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েল, অ্যালান বোর্ডার, মাইকেল ব্রিয়ারলি, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, অ্যালিস্টার কুক, সুনীল গাভাস্কার, লি জার্মন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসেইন, ক্লাইভ লয়েড, কপিল দেব, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অ্যান্ড্রু স্ট্রস, দিলীপ বেংসরকার, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইট। সূত্র: দ্য হিন্দু
এসটিআর
ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ২১ অধিনায়কের চিঠি

