সার্ককে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশঃ Aug 24, 2026 - 02:40
সার্ককে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখবে—এমন পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে সার্ককে আরও গতিশীল, কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে সার্ক প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব ও অবিচল অঙ্গীকারের জন্য সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান সার্ক মহাসচিব। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও যৌথ উন্নয়নের প্রধান আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সার্কের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মহাসচিব গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। তার রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব ও উদ্যোগের ফলেই সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি সংস্থাটি গঠনে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অব্যাহত গঠনমূলক অবদানের কথাও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জনগণের অভিন্ন স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে আঞ্চলিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। সার্ক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, সংলাপ ও বাস্তব সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, সার্ককে এমন একটি কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং বাস্তব সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জীবনমান ও সমৃদ্ধিতে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার মেয়াদে সার্কের কার্যক্রম সচল রাখা ও এগিয়ে নিতে মহাসচিবের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। ধারাবাহিক কর্মসূচি, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রেও তার নিষ্ঠার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাতে সার্ক কৃষি কেন্দ্র এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মান সংস্থার আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও স্বীকার করেন মহাসচিব। সার্ক এবং এর বিশেষায়িত সংস্থা ও আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

এ সময় সার্কের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তব, জনকেন্দ্রিক ও ফলপ্রসূ সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক একীকরণ, আঞ্চলিক যোগাযোগ, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়।

সার্কের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মহাসচিব। একই সঙ্গে সার্কের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের দূরদর্শী চিন্তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করতে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এসটিআর

সার্ককে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
লোগো
Aug 24, 2026

সার্ককে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta