রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকেই বেছে নিল বিএনপি, ঘোষণা বুধবার

প্রকাশঃ Aug 9, 2026 - 19:29
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকেই বেছে নিল বিএনপি, ঘোষণা বুধবার

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুই সিনিয়র সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেড় যুগের বেশি সময় পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে চাইবে, যিনি রাষ্ট্রের সংকটময় সময়ে দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। কারণ, দেশের যেকোনো সংকটকালে রাষ্ট্রপতিকে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল উপযুক্ত বলে মনে করছেন তারা।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের কঠিন সময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের অবস্থান তুলে ধরা এবং মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তার পরিমিত বক্তব্য ও শান্ত রাজনৈতিক কৌশল দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার সমন্বয়কের ভূমিকা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপিতে বিশ্বস্ততা ও দুঃসময়ের কাণ্ডারি হিসেবে মির্জা ফখরুলের অবস্থান শক্ত। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন ‘সাদামাটা ও সজ্জন’ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। রাজনৈতিক বিতর্কে শালীনতা বজায় রাখা এবং মার্জিত আচরণের কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কাছেও তিনি শ্রদ্ধেয়। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রবাসজীবনের সময়ে ধৈর্যের সঙ্গে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে নেতৃত্ব দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। মামলা, হামলা ও কারাবরণসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জিয়া পরিবারের প্রতি তার আনুগত্য এবং সাংগঠনিক তৎপরতা তাকে দলের নেতাকর্মীদের কাছে আলাদা অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের জাতীয় রাজনীতি সামলানোর অভিজ্ঞতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তাকে যোগ্য মনে করেন দলের অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক। রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পদের জন্য তার ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা মানানসই বলেও মনে করেন অনেকে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও মির্জা ফখরুলের রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। রাষ্ট্রপতি পদ কোনো একক দলের নয়, বরং রাষ্ট্রের—এ বিষয়টি বিবেচনায় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি উগ্রবাদবিরোধী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী বলে পরিচিত। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে সুসম্পর্কও তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও তার যোগাযোগ রয়েছে, যা নতুন সরকারের বৈশ্বিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রয়েছে রাজনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ পারিবারিক ইতিহাস। তার বাবা প্রয়াত রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী এবং ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল সাবেক শিক্ষক ও অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য। ৭৯ বছর বয়সী এ নেতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং ধীরস্থির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তাকে রাষ্ট্রের অভিভাবকের ভূমিকায় উপযুক্ত করে তুলেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। ১৯৮২ সালে এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর বারী পদত্যাগ করা পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। পরে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। এরপর প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ জন্য ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা তথা সংসদ সদস্যদের নাম ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকেই বেছে নিল বিএনপি, ঘোষণা বুধবার
লোগো
Aug 9, 2026

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকেই বেছে নিল বিএনপি, ঘোষণা বুধবার

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta