হাসিনা ও হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশঃ Aug 10, 2026 - 15:59
হাসিনা ও হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ভারতে অবস্থান করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে দিল্লির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকারীদেরও প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে এ অনুরোধ জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় দূতের সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

খলিলুর রহমান বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বৈঠকে উঠে এসেছে। আমরা তাদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করি, ভারত এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, শহীদ হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হয়েছে। ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল, সেগুলোও তাদের দেওয়া হয়েছে।

‘আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় (হাদি ইস্যু)। আমরা বলেছি, হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব আমাদের কাছে প্রত্যর্পণ করার জন্য,’ বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শুরুর প্রায় দেড় মাস পর সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান খলিলুর রহমান।

সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে, তবে খুব সংক্ষেপে। এগুলো প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনার বিষয় নয়। এসব বিষয়ে গতকালও দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে।

গত ৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে ভারতকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের অসন্তোষ জানানোর বিষয়টি বৈঠকে এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। গতকাল দীনেশ ত্রিবেদী বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন এবং আজ প্রধানমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন।

৫ আগস্টের ঘটনায় শেখ হাসিনা দুঃখ প্রকাশ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে দুঃখ প্রকাশের বিষয় নয়। বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে হবে। একটি রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ হলো নির্বাহী, আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগ। দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনার বিষয়টি বিচার বিভাগের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের একটি আদালত তার বিচার করে তাকে দণ্ড দিয়েছে।

তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কিছু থাকলে তা আদালতে উপস্থাপন করতে হয়।

খলিলুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট হাসিনা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন এবং ভারত সরকার সেই কর্মকাণ্ডের সুযোগ দিয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি সব দেশ শ্রদ্ধাশীল থাকবে—এটাই প্রত্যাশা। আশা করি, ভারত সরকারও বিষয়টি অনুধাবন করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমার ধারণা, তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আশা করি, বাংলাদেশের রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো করার মতো কোনো কাজ তারা আর করবে না। তাদের সঙ্গে আমার আলোচনায় আমি কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছি যে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।

দুই দেশের সম্পর্ক কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম কথা হলো, আমি গণক নই। সুতরাং বলতে পারব না কোনদিন এটা হচ্ছে।’

হাসিনা ও হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
লোগো
Aug 10, 2026

হাসিনা ও হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta