ভূমিকম্প মোকাবিলায় অংশীজনদের নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতিমূলক সভা
ভূমিকম্প-পরবর্তী অগ্নিনির্বাপণ ও সমন্বিত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে অংশীজনদের অংশগ্রহণে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঢাকা বিভাগ।
ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় ক্রেন, এক্সকাভেটরসহ বিভিন্ন ভারী উদ্ধারকারী সরঞ্জাম রয়েছে—এমন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের ইওসি সেন্টার, মিরপুরের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ভূমিকম্পের দিক থেকে ঢাকা দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসির নির্দেশনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ঢাকা বিভাগ এ সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান, পিএসসি।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টায় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরা নিজেদের পরিচয় দেন। পরিচয় পর্ব শেষে স্বাগত বক্তব্য দেন ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মো. মামুনুর রশিদ।
এরপর প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার সব জোন কমান্ডার ও জেলা কর্মকর্তাদের অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় ও যোগাযোগ বৃদ্ধির নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রশিক্ষণের আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এরপর উন্মুক্ত আলোচনা শুরু হয়। উপস্থিত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। ফায়ার সার্ভিস ঢাকা বিভাগের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় বক্তারা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে জাতীয় দুর্যোগে উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতার বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
হেভি ইকুইপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি মো. আফজাল হোসেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রমে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন। তিনি ‘ইমার্জেন্সি ইকুইপমেন্ট সাপোর্ট টিম’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
এ ছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, এনডিই, আবুল মোমেন গ্রুপ, ম্যাক্স গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, আকিজ ইস্পাত, ম্যাক্সিম গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০ জন মালিক ও প্রতিনিধি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সভাপতি ও ফায়ার সার্ভিস ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রানা প্লাজা ভবন ধস এবং সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও মিয়ানমারে সংঘটিত ভূমিকম্পের বিভিন্ন ছবি প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে সবাইকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি হেভি ইকুইপমেন্ট মালিক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে ‘ইমার্জেন্সি ইকুইপমেন্ট সাপোর্ট টিম’ গঠন করে সমন্বয় ও যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও মহড়া আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ঢাকার সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান, পিএফএম; সহকারী পরিচালক (অপারেশন) এ কে এম শামসুজ্জোহা; ফায়ার সার্ভিস ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার জোন প্রধান এবং জেলা কর্মকর্তারা।
-স্বাধীন দিগন্ত/ এমএ
ভূমিকম্প মোকাবিলায় অংশীজনদের নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতিমূলক সভা

