ইন্দোনেশিয়ায় পরকীয়ার অভিযোগে ৪ জনকে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত

প্রকাশঃ Aug 21, 2026 - 01:51
ইন্দোনেশিয়ায় পরকীয়ার অভিযোগে ৪ জনকে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত

পরকীয়ার অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে চারজন নারী-পুরুষকে জনসমক্ষে ১০০ চাবুক বা বেত্রাঘাত করার মাধ্যমে কড়া শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ আচেহের স্থানীয় শরিয়াহ আইন অনুযায়ী পরকীয়া ও বিয়ে-বহির্ভূত সম্পর্কের দায়ে আদালত তাঁদেরকে এই সাজা প্রদান করে।

সম্প্রতি বিচারিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্থানীয় শরিয়াহ পুলিশের নজরদারিতে উপস্থিত শত শত সাধারণ মানুষের সামনে ওই চার অভিযুক্ত ব্যক্তির বেত্রাঘাত নিশ্চিত করা হয়। প্রতিবার ১০০টি করে বেতের আঘাত বসানোর প্রক্রিয়ায় প্রতিজন অপরাধী চরম শারীরিক যন্ত্রণার মুখোমুখি হন। আচেহ হলো ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র অঞ্চল যেখানে বিশেষ প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের আওতায় বিয়ে-বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক, পরকীয়া, মদ্যপান এবং জুয়ার অপরাধে কঠোর শরিয়াহ আইনের প্রয়োগ রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এবার শাস্তি কার্যকরের জন্য সেখানে বিশেষ পোশাক ও মুখোশ পরা ‘আলগোজো’ বা জল্লাদ উপস্থিত ছিলেন। তবে চারজনের মধ্যে থাকা এক নারী আসামির ওপর ১০০ বেত্রাঘাতের আদেশ কার্যকর করার সময় এক ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা যায়। মুখোশধারী আলগোজো সাজাপ্রাপ্ত ওই নারীর কাছে যান এবং শারীরিক সাজার মাঝে তাকে নিচু স্বরে সান্ত্বনা ও সাহস দেওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রদেশটিতে নারী অপরাধীদের ওপর সাজা নিশ্চিতের বিষয়টি দেখভালের জন্য বেশ আগে থেকেই বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী আলগোজো নিয়োজিত রাখা হয়েছে। আচেহের স্থানীয় সরকার ও কট্টর সমর্থকদের মতে, সমাজে সামাজিক শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ রক্ষায় এই প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়া আবশ্যক।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাতের এই সাজাকে মধ্যযুগীয়, নিষ্ঠুর ও অমানবিক বলে সমালোচনা করে আসছে। এটিকে আদালতের চার দেয়ালের ভেতর স্থানান্তরের বিষয়ে বেশ কিছুদিন আলোচনা চললেও দেশটির প্রশাসন কঠোর অবস্থান বজায় রেখে জনসমক্ষেই সাজা কার্যকর অব্যাহত রেখেছে।

এসটিআর

ইন্দোনেশিয়ায় পরকীয়ার অভিযোগে ৪ জনকে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত
লোগো
Aug 21, 2026

ইন্দোনেশিয়ায় পরকীয়ার অভিযোগে ৪ জনকে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta