বিশ্ববাজারে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, দেশে আরও বাড়ার শঙ্কা

প্রকাশঃ Aug 21, 2026 - 16:11
বিশ্ববাজারে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, দেশে আরও বাড়ার শঙ্কা

মার্কিন ডলারের দরপতন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বন্ড পুনঃক্রয় কর্মসূচি বাড়ানোর ঘোষণায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দাম বাড়ার পথে রয়েছে মূল্যবান এই ধাতু। বিশ্ববাজারের এই প্রবণতার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৭ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে আগের সেশনে স্বর্ণের দাম জুনের শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মূল্যবান এই ধাতুটির দাম বেড়েছে ৩.৬ শতাংশ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দামও ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯৩ দশমিক ৯০ ডলারে পৌঁছেছে।

চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের মূল্য কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে তুলনামূলক সস্তা হয়ে উঠেছে। ফলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সরকার ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়াতে পারে। এর আগে বুধবার ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছিল, আগামী প্রান্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজের বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করে প্রতিটি কার্যক্রমে অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে।

তবে ট্রেজারি বিভাগের ঋণ ব্যবস্থাপনায় এই পরিবর্তন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার সিদ্ধান্ত এবং এর ফলে বাজারে সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশায় কী পরিবর্তন আসে তার ওপর।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদন কিছুটা কমেছে। যদিও জুলাইয়ে দেশটির কর্মসংস্থানে অপ্রত্যাশিত পতন হয়েছিল, নতুন এই তথ্য শ্রমবাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডের সতর্ক অবস্থান অব্যাহত থাকতে পারে।

সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, আগামী মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ এবং হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৩৭ শতাংশ হিসেবে দেখছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা।

স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে কোনো সুদ বা নিয়মিত আয় না দেওয়া স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও শুক্রবার বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৩ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৬৫ দশমিক ২৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৪৪ ডলারে। চলতি সপ্তাহে তিন ধাতুর দামই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

দেশের বাজারেও বাড়তে পারে দাম

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারেও মূল্যবান এই ধাতুগুলোর দাম বাড়তে পারে। সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম সমন্বয় করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়ানো হয়। ওই দিন প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা এবং রুপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দর কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।

এ বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ বার দাম বাড়ানো, ৫১ বার কমানো এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ৫ হাজার ৩০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে রুপার দাম ৬৩ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ দফা দাম বাড়ানো এবং ৩০ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; এর মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং তিনবার কমেছিল।

-স্বাধীন/ এমএ

বিশ্ববাজারে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, দেশে আরও বাড়ার শঙ্কা
লোগো
Aug 21, 2026

বিশ্ববাজারে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, দেশে আরও বাড়ার শঙ্কা

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta