মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা চালু নিয়ে বড় সুখবর, উচ্ছ্বসিত গমনেচ্ছুরা

প্রকাশঃ Aug 23, 2026 - 20:47
মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা চালু নিয়ে বড় সুখবর, উচ্ছ্বসিত গমনেচ্ছুরা

দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য খুলে দেওয়ার উদ্যোগে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। দেশটিতে যেতে আগ্রহী শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্টরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগদাতা ও নিয়োগের অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদিত ২৫টি এজেন্সির মধ্য থেকে পছন্দ অনুযায়ী এজেন্সি নির্বাচন করতে পারবে। মাত্র ৬ হাজার টাকা ফি দিয়ে যেকোনো অনুমোদিত এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে। সরকারের অনুমোদন পাওয়া ৩১২টি এজেন্সি এ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য এজেন্সিগুলোকেও এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

এ ছাড়া ২৫টি এজেন্সির যেকোনো একটির অনুমোদন সাপেক্ষে যে লাইসেন্সের অধীনে কাজ আসবে, সেই লাইসেন্সের আওতায় বিএমইটির ছাড়পত্র নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে এবং অধিকসংখ্যক এজেন্সির অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকদের মধ্যে এ খবরে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, দেশটিতে তুলনামূলক ভালো মজুরি ও কর্মপরিবেশ রয়েছে। শ্রমবাজার চালু হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহও বাড়বে।

নোয়াখালীর চাটখিলের মহিউদ্দিন রিংকু বলেন, তাঁর এক খালাতো ভাই ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় গিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা চালুর অপেক্ষায় ছিলেন। এখন তিনি আশা করছেন, তুলনামূলক কম খরচে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

পাবনার চাটমোহরের পারভেস আলমও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি। এবার শ্রমবাজার চালুর উদ্যোগে তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন ১ জুন থেকে নতুন বিদেশি কর্মী প্রবেশের সুযোগও স্থগিত করা হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস)। তালিকা প্রকাশের পর বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে ঠিক কবে থেকে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু হবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীর নয়াপল্টনের ম্যানপাওয়ার ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বলেন, সৌদি আরবের পর মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। তাঁর মতে, মালয়েশিয়ায় দক্ষ ও অদক্ষ—দুই ধরনের কর্মীরই সুযোগ রয়েছে। দেশটিতে ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত এবং ওভারটাইমের সুবিধাও রয়েছে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার বেশ মিল রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শ্রমবাজারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগে তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর মতে, এবার প্রায় সব এজেন্সির ব্যবসায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় শ্রমবাজারটি আরও উন্মুক্ত হবে।

কাকরাইলের ব্যবসায়ী শফি উদ্দিন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে অস্থিরতার কারণে অনেক কর্মী দেশে ফিরে আসছেন। এমন পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হওয়া কর্মীদের জন্য স্বস্তির খবর। তাঁর আশা, নতুন ব্যবস্থায় কর্মীরা কম খরচে ও নিরাপদে মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর উদ্যোগ এলেই একটি চক্র নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ায়। তাঁর অভিযোগ, অবৈধ পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর সঙ্গে জড়িত একটি চক্র বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে। সরকারের উচিত এ ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

এফডব্লিউসিএমএসের প্রকাশিত ২৫টি এজেন্সির তালিকায় রয়েছে—বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, মেসার্স ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-তাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-শোতুপ ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিঙ্কু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিঙ্ক, নেবারস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং অ্যাঙ্কর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।

এ ছাড়া এফডব্লিউসিএমএস ৪০টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকাও প্রকাশ করেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। তবে তখন বাজারটি চালু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যান তারেক রহমান। ওই সফরকে ঘিরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়।

সফরের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। পরে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন মালয়েশিয়া সফর করলে শ্রমবাজার চালুর প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যায়।

দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বায়রার সদস্যভুক্ত সব এজেন্সি যাতে কাজের সুযোগ পায়, সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করছে। একই সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের কর্মীরা কম খরচে নিরাপদভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।

-স্বাধীন/ এমএ

মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা চালু নিয়ে বড় সুখবর, উচ্ছ্বসিত গমনেচ্ছুরা
লোগো
Aug 23, 2026

মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা চালু নিয়ে বড় সুখবর, উচ্ছ্বসিত গমনেচ্ছুরা

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta