বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
বৃত্তি ও উপবৃত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত সমতার ধারণার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে ইকুইটি-বেসড ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, সরকারের সহায়তার প্রতিটি টাকা এমন শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে হবে, যার জন্য এই সহায়তা শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থে প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিপিআরসি ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে ‘প্রমাণ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা (School Level Improvement Plan-SLIP)-এর কার্যকারিতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সব শিক্ষার্থীকে সমানভাবে সহায়তা করলেই শিক্ষাক্ষেত্রে প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠিত হয় না। বরং যার প্রয়োজন বেশি, তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই প্রকৃত ন্যায্যতা।
তিনি বলেন, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের একটি শিশুর জন্য সামান্য আর্থিক সহায়তাও বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য বৃত্তি ও উপবৃত্তির নীতিতে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা, শিশুর সামাজিক-অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো পরিবার আর্থিকভাবে সক্ষম থাকা অবস্থায় সন্তানকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে, ওই পরিবারের জন্য একই ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন কি না, তা নতুন করে বিবেচনা করা যেতে পারে।
অন্যদিকে, যেসব পরিবার সন্তানের শিক্ষার ব্যয় বহন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের শিশুদের সহায়তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সরকারের সীমিত সম্পদ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা নয়; দারিদ্র্য, আর্থিক সংকট কিংবা অন্য কোনো বাধার কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বৃত্তি, উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও স্কুল ফিডিংসহ সব ধরনের সহায়তা কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা বাড়াতে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী শনাক্ত করার সক্ষমতা আরও উন্নত করতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হিসেবে সাঁতার শেখানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুরা জলাশয়, নদী ও পানিবেষ্টিত পরিবেশে বসবাস করে। তাই সাঁতারকে শুধু ক্রীড়া হিসেবে না দেখে জীবনদক্ষতা ও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিশুদের শুধু বইয়ের জ্ঞান দিলেই হবে না; নিজেদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও তাদের শেখাতে হবে।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালে। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
-স্বাধীন/এমএ
বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

