ব্যাংকের মালিকানায় লাগাম, ৬ মাসের মধ্যে অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রির নির্দেশ
ব্যাংক-কোম্পানিতে শেয়ার মালিকানার ক্ষেত্রে নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো কোম্পানি তার নিট সম্পদের পরিমাণের বেশি মূল্যের শেয়ার কোনো একক বা একাধিক ব্যাংক-কোম্পানিতে রাখতে পারবে না। বর্তমানে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত শেয়ার কোনো কোম্পানির হাতে থাকলে তা ছয় মাসের মধ্যে বিক্রি করে সীমার মধ্যে আনতে হবে।
একই সঙ্গে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক কোম্পানির পক্ষে ‘প্রতিনিধি পরিচালক’ নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রতিনিধি পরিচালক হতে হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক হওয়ার পাশাপাশি নিজের নামেও ওই কোম্পানির নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানির মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শেয়ারধারক কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত করতেই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক কোম্পানির প্রতিনিধিত্বে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি তার নিট সম্পদের পরিমাণের চেয়ে বেশি মূল্যের শেয়ার কোনো একক বা একাধিক ব্যাংক-কোম্পানিতে ধারণ করতে পারবে না। বর্তমানে কোনো কোম্পানির হাতে থাকা ব্যাংক-কোম্পানির শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত সীমার বেশি থাকলে সার্কুলার জারির তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রি করে তা নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনতে হবে।
অর্থাৎ, কোনো কোম্পানি তার আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করে রাখতে পারবে না।
এদিকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক হতে হবে। পাশাপাশি তার নিজের নামেও ওই কোম্পানির নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রতিনিধি পরিচালকের নিজের নামে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ২ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। অন্যদিকে অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে এ মালিকানার পরিমাণ হতে হবে ন্যূনতম ২০ শতাংশ। প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পুরো সময়জুড়েই এই শেয়ার মালিকানা বজায় রাখতে হবে।
এ ছাড়া শেয়ারধারক কোম্পানির পক্ষে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। অনুমোদনের জন্য আবেদন করার সময় মনোনীত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক কোম্পানিতে প্রয়োজনীয় শেয়ার মালিকানা রয়েছে—এমন প্রমাণপত্রও জমা দিতে হবে।
সার্কুলার জারির আগে শেয়ারধারক কোম্পানির পক্ষে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ পাওয়া প্রতিনিধি পরিচালকদের পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনার বিষয়গুলো পরিচালকদের অবগতির জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তা ও শেয়ারধারকদেরও বিষয়টি অবহিত করতে হবে।
ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা জারি করেছে। সার্কুলারটি জারির দিন থেকেই কার্যকর হবে।
-স্বাধীন/এমএ
ব্যাংকের মালিকানায় লাগাম, ৬ মাসের মধ্যে অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রির নির্দেশ

