শিশু কলিকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল বিক্ষুব্ধ জনতা

প্রকাশঃ Sep 18, 2026 - 21:36
শিশু কলিকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল বিক্ষুব্ধ জনতা

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাঁর বহুতল ভবনে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মোস্তফা প্রামাণিক ও তাঁর ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত বৃহস্পতিবার পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কুলোনিয়া গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির দিকে মার্চ করেন এবং ভবনটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। ক্ষুব্ধ জনতা এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

খবর পেয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল; তবে জনস্রোতের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ জানায়, চাঞ্চল্যকর এই শিশু হত্যা মামলার তদন্তভার ইতিমধ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। অবশেষে নিখোঁজের দীর্ঘ সাত দিন পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিজ বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তাঁর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তাঁর ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবারের প্রেস ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে—ঘটনার দিন মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেয় আসামিরা। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডের পর নিজেদের অপরাধ লুকাতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খোঁজার নাটক করেন এবং শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজিত মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

-স্বাধীন/এমএ

শিশু কলিকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল বিক্ষুব্ধ জনতা
লোগো
Sep 18, 2026

শিশু কলিকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল বিক্ষুব্ধ জনতা

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta