জিএমপির ফেসবুক পেজে ১১ দলের লংমার্চ নিয়ে পোস্ট, পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
বিরোধীদলের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ এবং গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসের পথসভা নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় এক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পোস্টটি নিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সমালোচনার মুখে সেটি প্রথমে সংশোধন এবং পরে পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়।
প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তা খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বর্তমানে তাকে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জিএমপি সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিরোধীদলের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাইপাস মোড়ে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টার দিকে আয়োজিত ওই পথসভায় বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।
পথসভাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ও সভাস্থলের আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ সময় জিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
পথসভা শেষ হওয়ার পর জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লংমার্চ নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। এতে লংমার্চের গন্তব্য ও দাবির পাশাপাশি কর্মসূচির সময়সূচি এবং পুলিশের দায়িত্ব পালনের তথ্য উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে বলা হয়, লংমার্চটি আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে জিএমপি এলাকায় প্রবেশ করে। পরে সকাল ১০টার দিকে ভোগরা বাইপাস এলাকায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চটি গন্তব্যের উদ্দেশে চলে যায়। এতে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া পোস্টে বলা হয়, জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অফিসার ও সদস্যরা লংমার্চের নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন।
পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অনেকে পোস্টটির সমালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্টটি প্রথমে সংশোধন করা হয় এবং পরবর্তীতে পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়।
এরপর পোস্টটি প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদকে প্রত্যাহার করে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাকে শোকজ করা হয়েছে।
প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূঞা গণমাধ্যমকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত স্টাফ অফিসারকে প্রত্যাহার করে হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টের কারণেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
-স্বাধীন/এমএ
জিএমপির ফেসবুক পেজে ১১ দলের লংমার্চ নিয়ে পোস্ট, পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

