ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পাটওয়ারীকে গ্রেফতারের দাবি যুবদল সভাপতির
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ শীর্ষক এ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল।
সমাবেশে মোনায়েম মুন্না বলেন, বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসতে চান। তিনি দাবি করেন, পাটওয়ারী বলেছেন, ১১ দলের দাবি মেনে নিলে ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে এসব ককটেল কারা বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে—এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাগুলোর তদন্ত করে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ককটেল মারার হোতা হিসেবে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করতে হবে।
জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গে যুবদল সভাপতি বলেন, তার কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে দেশবাসী অবগত হয়েছে। তার কারণে ১৯ বছর বয়সী একটি মেয়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ট্রলের শিকার হতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোনায়েম মুন্না বলেন, মেয়েটির মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে—এ বিষয়টি তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব ছিল এলাকার ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মেয়েটির ওপর নির্যাতন চালাতেন। মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া দরকার।
যুবদল সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় প্রথমবারের মতো একজন এমপি রিমান্ডে রয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। এ ঘটনাকে তিনি জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে মামলা হওয়ার পর গাজী নজরুলকে গ্রেফতার করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
মোনায়েম মুন্না অভিযোগ করেন, গতকাল জামায়াতের আরেক নেতা মাদ্রাসার এক ছাত্রের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন। তিনি বলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নামে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে তিনি মনে করেন।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের অভিযোগও করেন যুবদল সভাপতি। তিনি বলেন, অতীতেও দলটি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করেছিল এবং তার ধারণা, এখনো তারা গোপনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, জনগণ তাদের চিহ্নিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন মোনায়েম মুন্না। তিনি বলেন, এ ধরনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। যুবদল রাজপথে রয়েছে এবং ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সংগঠনটি প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এক শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান যুবদল সভাপতি। একই সঙ্গে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালাউদ্দিন আম্মারকে গ্রেফতারের দাবিও জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, নুরুল ইসলাম সোহেল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেকসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
-স্বাধীন/এমএ
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পাটওয়ারীকে গ্রেফতারের দাবি যুবদল সভাপতির

