চকরিয়ায় কিশোরী অপহরণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

প্রকাশঃ Sep 23, 2026 - 12:17
চকরিয়ায় কিশোরী অপহরণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

কক্সবাজারের চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরী শিক্ষার্থীকে অপহরণের মামলায় সুমন বৈষ্ণব (৩৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর একটি ধারায় তাকে আরও ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পৃথকভাবে মোট ৩৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সলিমুল মোস্তফা।

দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন বৈষ্ণব চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তরছঘাটা এলাকার তুলসী বৈষ্ণবের ছেলে।

মামলার এজাহারে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত অপর তিন ব্যক্তি বিজয় দাশ, কৃষ্ণপদ দাশ ও পিঠন বৈষ্ণবকে অভিযোগপত্র থেকেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে তাদের বিষয়ে রায়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

যেভাবে অপহরণের অভিযোগ

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পিপি সলিমুল মোস্তফা জানান, ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের উত্তর পাশের সড়ক দিয়ে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল ওই কিশোরী। এ সময় সুমন বৈষ্ণব অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে অপহরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় তাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ ছিল মামলার এজাহারে থাকা আরও তিনজনের বিরুদ্ধে।

ভিকটিমের মা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তার কপালে আঘাত লাগে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে কিশোরীকে মহাসড়কে নিয়ে এস আলম বাস কাউন্টারের পাশে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়।

মামলায় আরও বলা হয়, সুমন দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাতায়াতের পথে ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ঘটনার দিন প্রাইভেট পড়া শেষে ভাই প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী ও মায়ের সঙ্গে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় তাকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ।

তদন্ত ও আদালতের রায়

ঘটনার পর চকরিয়া থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবব্রত রায় ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে মামলার ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামিকে বাদ দিয়ে সুমন বৈষ্ণবকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়।

আদালতে বিচার চলাকালে বাদী ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে বিচারক সুমন বৈষ্ণবকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আসামিপক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান হেলাল ও অ্যাডভোকেট প্রতিভা দাশ। তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।


-স্বাধীন/এস

চকরিয়ায় কিশোরী অপহরণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
লোগো
Sep 23, 2026

চকরিয়ায় কিশোরী অপহরণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta