সুন্দরবনে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ দস্যুর আত্মসমর্পণ

প্রকাশঃ Sep 10, 2026 - 14:04
সুন্দরবনে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ দস্যুর আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ থাকা নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোংলায় কোস্টগার্ড বেজে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হয়।

আত্মসমর্পণের সময় দস্যুরা বিপুলসংখ্যক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যোগাযোগের সরঞ্জাম জমা দেন। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

কোস্টগার্ড জাহাজ বিসিজিএস কামরুজ্জামানের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্‌দীন আত্মসমর্পণ পরবর্তী সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে কোস্টগার্ড। এসব অভিযানের কারণে বনদস্যুরা বর্তমানে অনেকটাই চাপে রয়েছে।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সক্রিয় সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে ১৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিক্স শুটার, সাইড হেমার, এইট শুটার, ফোর শুটার, বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, এমথ্রি গ্যাস গান, ওয়ান শুটার ও এয়ার গান।

এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তলের ২০ রাউন্ড গুলি, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং ৮ মি.মি. তাজা গোলা ৫ রাউন্ড জব্দ করা হয়েছে। সঙ্গে পাওয়া গেছে চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকি।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মফিজুল ইসলাম (৩৫), মিন্টু গাজী (৩৯), শাহজাহান মালী (৩৫), আজিজুর রহমান (৪৫) ও আজিজুল গাজী (৩৫)।

তাদের বাড়ি বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায়। কোস্টগার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘদিন সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনের দস্যুদের নির্মূল এবং উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের জিম্মায় থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়ার পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে সুন্দরবনের বিভিন্ন সক্রিয় দস্যু বাহিনী ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় দস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।


-স্বাধীন দিগাস্ত/এস

সুন্দরবনে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ দস্যুর আত্মসমর্পণ
লোগো
Sep 10, 2026

সুন্দরবনে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ দস্যুর আত্মসমর্পণ

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta