ইরানের তেলের বিনিময়ে চীনা পণ্য, কীভাবে চলছে এই লেনদেন?

প্রকাশঃ Sep 10, 2026 - 17:21
ইরানের তেলের বিনিময়ে চীনা পণ্য, কীভাবে চলছে এই লেনদেন?

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ওষুধ, গাড়ি ও যোগাযোগের সরঞ্জামের পাশাপাশি সামরিক উপকরণও চীন থেকে আনছে তেহরান। এই বাণিজ্যে প্রচলিত আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা এড়িয়ে তেলের বিনিময়ে বিশেষ এক ধরনের ক্রেডিট পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ইরানি কর্মকর্তা ও আরও তিনজন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান থেকে তেল নেওয়ার বিপরীতে চীনা পণ্য কেনার জন্য একটি গোপন আর্থিক কাঠামো গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার পর এই ব্যবস্থা ইরানের জন্য বৈদেশিক বাণিজ্য সচল রাখার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

এই পদ্ধতি থেকে সুবিধা পাচ্ছে চীনও। দেশটি তুলনামূলক কম দামে ইরানি অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে পারছে। একই সঙ্গে ইরানে পণ্য রপ্তানি করা চীনা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সরাসরি ঝুঁকি থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারছে।

রয়টার্সের হিসাবে, ২০২৫ সালে সমুদ্রপথে ইরানের রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি গেছে চীনে। ওই বছর চীনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে।

যেভাবে চলছে আর্থিক লেনদেন

এই বাণিজ্যে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ উদ্দেশ্যে তৈরি আর্থিক কাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ঝুহাই ঝেনরংয়ের হয়ে কাজ করা একজন ক্রেতা প্রতি মাসে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার একটি অপেক্ষাকৃত অখ্যাত চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করতেন। প্রতিষ্ঠানটির নাম চুশিন।

জানা গেছে, জমা হওয়া অর্থের একটি অংশ ইরানের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হতো। অন্য অংশ একটি ‘স্পেশাল পারপাস ভেহিকল’ বা SPV-তে স্থানান্তর করা হতো। পরে ইরানে পণ্য পাঠানো চীনা কোম্পানিগুলোর পাওনা পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করা হতো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এই SPV-এর মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি ডলারের লেনদেন হয়েছে।

ওই ব্যবস্থায় ইরানে ওষুধ, গাড়ি ও যোগাযোগ সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এমনকি গত এক বছরে কয়েক মিলিয়ন ডলারের বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের একটি চুক্তিতেও এই আর্থিক কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। তবে রয়টার্স এসব লেনদেনের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চীনের কৌশল

এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাষক আন্দ্রেয়া ঘিসেল্লির মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে চীন একদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ সামলাতে পারছে, অন্যদিকে তার ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি থেকেও রক্ষা করতে পারছে।

তার মতে, বেইজিং এমন একটি কাঠামো বজায় রাখতে চায়, যেখানে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের দায় থেকে নিজেদের দূরে রাখার সুযোগ থাকে।

তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আর্থিক ব্যবস্থার বিষয়ে তারা অবগত নয়। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া আরোপ করা একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে।

ইরান ও চীন দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার। দুই দেশই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে একতরফা ও অবৈধ বলে সমালোচনা করে থাকে।

এর মধ্যেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থ ও সরঞ্জামের প্রবাহ বন্ধ করতে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টার মধ্যে চীন-ইরান বাণিজ্যের এই বিকল্প আর্থিক কাঠামো আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

-স্বাধীন দিগাস্ত/এস

ইরানের তেলের বিনিময়ে চীনা পণ্য, কীভাবে চলছে এই লেনদেন?
লোগো
Sep 10, 2026

ইরানের তেলের বিনিময়ে চীনা পণ্য, কীভাবে চলছে এই লেনদেন?

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta