সামরিক মর্যাদায় মায়ের পাশে সমাহিত তাসনিম রিফাত

প্রকাশঃ Sep 10, 2026 - 18:12
সামরিক মর্যাদায় মায়ের পাশে সমাহিত তাসনিম রিফাত

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাতকে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম থেকে রিফাতের মরদেহ রাজশাহী সেনানিবাসে নেওয়া হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে সেখান থেকে তার মরদেহ পৌঁছানো হয় বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে আসে শোকের আবহ। শেষবারের মতো রিফাতকে দেখতে বাড়িতে ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজনসহ আশপাশের এলাকার বহু মানুষ। কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী রিফাতের বাবা আসাদুল ইসলামকে স্বজনেরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ছেলেকে হারানোর শোক সামলাতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে রিফাতের মা মারা যান। সেই শোক কাটিয়ে পরিবার যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছিল, তখনই রিফাতের মৃত্যুর খবর পরিবারটির ওপর নতুন করে শোকের পাহাড় নামিয়ে আনে।

পরে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিন্দারামপুরে রিফাতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

তাসনিম রিফাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনে গানার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। অনুশীলনের একপর্যায়ে ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলা বিস্ফোরিত হলে রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

মাত্র ২৮ বছর বয়সে রিফাতের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী এবং প্রায় আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী এবং বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনেরাও।

পরিবারের সদস্যরা জানান, চার ভাইবোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের নানা স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। পরে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে পরিবারের গর্বে পরিণত হন। স্বজনদের কাছে তিনি ছিলেন শান্ত ও দায়িত্বশীল স্বভাবের মানুষ।

চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন রিফাত। চাকরির কারণে সবসময় বাড়িতে আসতে না পারলেও নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা।

-স্বাধীন দিগাস্ত/এস

সামরিক মর্যাদায় মায়ের পাশে সমাহিত তাসনিম রিফাত
লোগো
Sep 10, 2026

সামরিক মর্যাদায় মায়ের পাশে সমাহিত তাসনিম রিফাত

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta