ইইউতে আশ্রয় আবেদন পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, বাংলাদেশিদের বেড়েছে ১৩ শতাংশ

প্রকাশঃ Sep 11, 2026 - 11:23
ইইউতে আশ্রয় আবেদন পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, বাংলাদেশিদের বেড়েছে ১৩ শতাংশ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে এই প্রবণতার মধ্যেও বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যায় তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ১৭ শতাংশ কম। একই সঙ্গে ২০২১ সালের পর বছরের প্রথম ছয় মাসে এটিই সর্বনিম্ন আবেদন।

ইইউএএ বলছে, সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের কারণে দেশটির নাগরিকদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি উত্তর আফ্রিকাসহ বিভিন্ন উৎপত্তি ও ট্রানজিট দেশের সঙ্গে ইইউর সহযোগিতা জোরদার হওয়াও আবেদন কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিউনিসিয়া ও মৌরিতানিয়ার মতো দেশের সঙ্গে চুক্তির আওতায় অর্থনৈতিক সহায়তার বিনিময়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।

বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন করেছেন আফগানিস্তানের নাগরিকরা। তাদের আবেদনের সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভেনেজুয়েলা এবং তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ।

ইইউএএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩২৭। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ৫২১। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

তবে আবেদন বাড়লেও বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার হার অত্যন্ত কম। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশিদের প্রথম ধাপের আবেদন অনুমোদনের হার ছিল ৫ শতাংশেরও কম।

ইইউএএ জানিয়েছে, যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন অনুমোদনের হার ২০ শতাংশের নিচে, সেসব দেশের আবেদন দ্রুত যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ এই তালিকায় রয়েছে।

ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি আবেদন

ইইউ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন পেয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে ছয় মাসে প্রায় ৬৯ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এরপর রয়েছে ইতালি ও স্পেন। জার্মানিতে জমা পড়েছে প্রায় ৫৫ হাজার আবেদন।

এই চার দেশেই ইইউ অঞ্চলের মোট আশ্রয় আবেদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জমা হয়েছে। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে গ্রিসে।

বাংলাদেশিদের প্রায় ৩৬ হাজার মামলা অপেক্ষমাণ

ইইউ অঞ্চলে আশ্রয় আবেদনের জটও বড় আকারে রয়ে গেছে। জুনের শেষে প্রথম ধাপে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার আশ্রয় মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কম। তবে প্রশাসনিক ও বিচারিক সব ধাপ মিলিয়ে মোট অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার।

এই অপেক্ষমাণ মামলার তালিকায়ও বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। প্রথম ধাপেই প্রায় ৩৬ হাজার বাংলাদেশির আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলা, সিরিয়া, কলম্বিয়া ও পেরুর পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

নতুন আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়লেও পুরোনো মামলার জট পুরোপুরি কমেনি। ইইউএএর তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা মামলার হার বেড়ে ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সামগ্রিকভাবে ইইউতে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা কমলেও বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অনুমোদনের অত্যন্ত নিম্নহার ইউরোপমুখী বাংলাদেশিদের অভিবাসন প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে।

সূত্র: এএফপি

-স্বাধীন দিগাস্ত/এস

ইইউতে আশ্রয় আবেদন পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, বাংলাদেশিদের বেড়েছে ১৩ শতাংশ
লোগো
Sep 11, 2026

ইইউতে আশ্রয় আবেদন পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, বাংলাদেশিদের বেড়েছে ১৩ শতাংশ

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta