বিরল খনিজের খোঁজে ইরান যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা

প্রকাশঃ Aug 14, 2026 - 21:19
বিরল খনিজের খোঁজে ইরান যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ খাতে ইরানের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা জোরদার করছে চীন। চলতি বছরের যৌথ কর্মসূচিতে বিরল খনিজ অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তিকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে চীনের ন্যাশনাল ন্যাচারাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফসি) এবং ইরান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন।

হংকং ভিত্তিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌথ কর্মশালার উদ্দেশ্যে প্রতিটি সেশনের জন্য ৪ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে চীনের এনএসএফসি। এই তহবিলের মাধ্যমে সভা আয়োজন, বাসস্থান এবং অভ্যন্তরীণ ভ্রমণব্যয় মেটানো হবে। অন্যদিকে ইরান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন ইরানি গবেষকদের আন্তর্জাতিক যাতায়াত এবং ইরান সফরকারী চীনা বিশেষজ্ঞদের থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

বর্তমান উত্তপ্ত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেইজিং ও তেহরানের এই যৌথ পদক্ষেপকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকেরা। বিরল খনিজ বা ‘রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস’ হলো ১৭টি বিশেষ ধাতুর একটি গোষ্ঠী, যা অনন্য চুম্বকীয় ও বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি, যেমন—ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, রাডার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স তৈরিতে এসব কাঁচামাল অপরিহার্য।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল খনিজের মজুত রয়েছে চীনের কাছে। বৈশ্বিক উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণেও দেশটি একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসংক্রান্ত প্রযুক্তি বিদেশে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বেইজিং ক্রমান্বয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ নীতি আরোপ করছে।

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করার পর বিরল খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছিল বেইজিং। এর ফলে মার্কিন প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি নির্মাতাদের কাঁচামাল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং বিশ্বজুড়ে চীনের ওপর ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত নির্ভরতার চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ পাঁচ মাসের সামরিক সংঘাতের কারণে মার্কিন বাহিনী নিজেদের দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল সামরিক ক্ষেপণাস্ত্রের এক বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। অস্ত্রের মজুত দ্রুত পুনর্গঠন এবং চীনা নির্ভরতা কমানোর তাগিদে সম্প্রতি ডোমেস্টিক বিরল খনিজ ও ব্যাটারি প্রকল্পে ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলার মার্কিন বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বিরল খনিজের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরানের ভূতাত্ত্বিক গঠনে প্রচুর লৌহ আকরিক ও ফসফেটের উপস্থিতি রয়েছে, যা বিরল খনিজ প্রাপ্তির জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘হেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্য ইরানের প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সম্ভাব্য বিরল খনিজ শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ইরানের নিষ্কাশন ও শিল্প পর্যায়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা এখনো প্রাথমিক ধাপে রয়ে গেছে। বেইজিংয়ের কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার মাধ্যমে তেহরান তাদের এই খনিজ খাতকে দ্রুত শিল্পে রূপ দিতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এসটিআর

বিরল খনিজের খোঁজে ইরান যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা
লোগো
Aug 14, 2026

বিরল খনিজের খোঁজে ইরান যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta