সুদহার নিয়ে শঙ্কায় কমেছে স্বর্ণের দাম
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময় সুদহার উচ্চ পর্যায়ে রাখবে—এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমে আসে। তবে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮৩ দশমিক ১০ ডলারে উঠেছে।
এদিকে মার্কিন ডলার দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি স্থির রয়েছে। ডলারের দাম শক্তিশালী হলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফলে স্বর্ণের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দামের ওঠানামা অনেকটাই তেলের দাম ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের কাঠামোগত চালিকাশক্তিগুলো এখনো শক্তিশালী রয়েছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদহার বেশি থাকলে সুদ থেকে আয় করা সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়ে। এতে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আগ্রহ কমতে পারে।
ফেডের সুদহার নীতিতে নজর
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদহার নীতিও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। গত সপ্তাহে ফেড নীতিনির্ধারণী সুদহার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বছরের শেষ হওয়ার আগে আরও এক দফা সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
বস্টন ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট সুসান কলিন্স লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে জানান, মূল্যস্ফীতি ভবিষ্যতে ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকার ঝুঁকি থাকায় তিনি ফেডের সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তবে চলতি বছর সুদহার নির্ধারণকারী ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির ভোটাধিকার না থাকা কলিন্স ভবিষ্যতে আবার সুদহার বাড়ানোর পক্ষে রয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি।
সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপান ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদহার বাড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ
স্বর্ণের বাজারে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের অবসানে সমঝোতা না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিএমআইয়ের বিশ্লেষকেরা ২০২৬ সালে স্বর্ণের গড় দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০০ ডলার থাকার পূর্বাভাস বহাল রেখেছেন। তাদের মতে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অব্যাহত স্বর্ণ কেনার কারণে দাম ৩ হাজার ৮০০ ডলারের কাছাকাছি একটি শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতু
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮১৫ দশমিক ১১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩০১ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে।
সূত্র: রয়টার্স
-স্বাধীন/এস
সুদহার নিয়ে শঙ্কায় কমেছে স্বর্ণের দাম

