৭৮ লাখ টাকার সেতু , কিন্তু ওঠার রাস্তা নেই
সেতু আছে, কিন্তু সেতুতে ওঠার রাস্তা নেই। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বালাটারী গ্রামে মরা তিস্তা খালের ওপর ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির অবস্থা এমনই।
নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে কয়েক বছর আগে। তবে সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা। সরকারি অর্থে নির্মিত সেতুটি পড়ে আছে অনেকটা অচল অবস্থায়।
সেতু দিয়ে খাল পার হওয়ার সুযোগ থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় চাকিরপশার ও নাজিমখান ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে বিকল্প পথে প্রায় ৩ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও ভোগান্তি—দুটিই বাড়ছে।
কয়েক বছরেও শেষ হয়নি সংযোগ সড়ক
রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বালাটারী গ্রামে মরা তিস্তা খালের ওপর ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৭৮ লাখ টাকা।
কাজটি বাস্তবায়নের জন্য কুড়িগ্রামের মেসার্স শীতল কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মোকছেদুল হকের সঙ্গে চুক্তি করা হয়।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথমে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এর মধ্যে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ আর শেষ হয়নি।
সেতু পেরিয়ে যাওয়ার পথ নেই
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি নির্মাণের আগে মরা তিস্তা খাল পারাপারে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাদের। সেতু নির্মাণের পর সেই ভোগান্তি দূর হবে বলে আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই আশাই এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলার সময় সেতুর কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে সে সময় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি বলে দাবি তাদের।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।
দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস
কাজটির মূল ঠিকাদার মোকছেদুল হক বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। তার দাবি, কাজের সাব-ঠিকাদার রাকিবুজ্জামান রাকিব বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারকে এখনো প্রকল্পের সম্পূর্ণ বিল দেওয়া হয়নি। চলতি মাসে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ না হলে চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাজের মান নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয়দের প্রশ্ন, মানুষের চলাচলের জন্য যে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, সংযোগ সড়ক ছাড়া সেই সেতু কবে মানুষের কাজে আসবে?
তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি ব্যবহার উপযোগী করা হোক। এতে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং সরকারি অর্থে নির্মিত সেতুটিও কার্যকরভাবে মানুষের কাজে আসবে।
-স্বাধীন/এস
৭৮ লাখ টাকার সেতু , কিন্তু ওঠার রাস্তা নেই

