ইসরায়েল-ফিলিস্তিন উভয় দেশের রাজধানী হবে জেরুজালেম: জাতিসংঘ মহাসচিব

প্রকাশঃ Sep 23, 2026 - 16:39
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন উভয় দেশের রাজধানী হবে জেরুজালেম: জাতিসংঘ মহাসচিব

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও ভূখণ্ড সংযুক্তীকরণের (অ্যানেক্সেশন) উদ্যোগের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ অবস্থায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয় রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত একটি সাইডলাইন বৈঠকে এ কথা বলেন গুতেরেস। কানাডা, ফ্রান্স, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গুতেরেস বলেন, একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত, কার্যকর ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় ভিত্তিগুলো ‘পদ্ধতিগতভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে’।

তিনি বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, নতুন বসতি স্থাপন এবং বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলাও এর মধ্যে রয়েছে।

দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই মূল পথ
জাতিসংঘ মহাসচিবের মতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য পথ। এর ভিত্তি হবে ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখা, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব এবং পূর্ববর্তী চুক্তিগুলো। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও এ সমাধান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গুতেরেসের প্রস্তাব
দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে গুতেরেস কয়েকটি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো—
১. ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করা;
২. ভূখণ্ড সংযুক্তীকরণের উদ্যোগ প্রতিহত করা;
৩. ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা ও সমর্থন দেওয়া;
৪. দখলদারত্বের অবসান এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমর্থন দেওয়া।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘের কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্রের নেওয়া উদ্যোগকে স্বাগত জানান গুতেরেস। তিনি বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরকে একটি বৈধ ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে।

চূড়ান্ত লক্ষ্য
গুতেরেসের প্রস্তাবিত চূড়ান্ত কাঠামো অনুযায়ী, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে নিরাপদ ও স্বীকৃত সীমান্তের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থান করবে। একই সঙ্গে জেরুজালেম হবে দুই রাষ্ট্রের রাজধানী।

গুতেরেস বলেন, ‘এর কোনো বিকল্প নেই। সময় ফুরিয়ে আসছে।’

‘দ্য রোড অ্যাহেড’ শীর্ষক ওই বৈঠকে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং গাজার জন্য একটি বিস্তৃত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ‘নিউইয়র্ক ঘোষণা’ গৃহীত হওয়ার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই ঘোষণায় বিশ্বনেতারা ২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসানের প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গুতেরেস বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যারা শান্তি চান, তাদের জন্য দুই রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।’


-স্বাধীন/এমএ

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন উভয় দেশের রাজধানী হবে জেরুজালেম: জাতিসংঘ মহাসচিব
লোগো
Sep 23, 2026

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন উভয় দেশের রাজধানী হবে জেরুজালেম: জাতিসংঘ মহাসচিব

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta