জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে অর্থনীতি, রোহিঙ্গা ও আঞ্চলিক সম্পর্ক গুরুত্ব পাবে

প্রকাশঃ Sep 24, 2026 - 10:28
জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে অর্থনীতি, রোহিঙ্গা ও আঞ্চলিক সম্পর্ক গুরুত্ব পাবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন। জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ও সমতামূলক ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে।

তবে ভাষণে মোটা দাগে অর্থনীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও কূটনৈতিক তৎপরতায়ও ইতোমধ্যে এসব বিষয় বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের আগে বিশ্বনেতা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটসহ অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে বাংলাদেশ। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফলে জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি এবারের সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকট: স্থায়ী সমাধানের তাগিদ

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে। দীর্ঘ আট বছর ধরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এর ফলে দেশের ওপর মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা।

প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং ইউএনএইচসিআরের প্রধান বারহাম সালেহের সঙ্গে বৈঠকেও রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।

বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ রোহিঙ্গা সংকটের ওপর ধরে রাখা এবং সংকটের মূল কারণ ও সমাধানের দায়িত্ব মিয়ানমারের ওপর রাখার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা।

আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ভুটান, মালদ্বীপ ও হাইতির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ও উঠে এসেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের সম্পর্কের ইতিহাস চার দশকেরও বেশি সময়ের।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।

এরপর তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন।

আজ তারেক রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তাঁর অভিষেক ঘটবে। এর মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়ন ভাবনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বার্তা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

-স্বাধীন/এস

জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে অর্থনীতি, রোহিঙ্গা ও আঞ্চলিক সম্পর্ক গুরুত্ব পাবে
লোগো
Sep 24, 2026

জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে অর্থনীতি, রোহিঙ্গা ও আঞ্চলিক সম্পর্ক গুরুত্ব পাবে

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta