ন্যাম ভবনের বারান্দায় ঘুমাতেন মরিয়ম, আদালতে পুলিশের তথ্য

প্রকাশঃ Sep 29, 2026 - 12:27
ন্যাম ভবনের বারান্দায় ঘুমাতেন মরিয়ম, আদালতে পুলিশের তথ্য

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে জাতীয় সংসদ ভবনের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটের বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে ধর্মীয় নিয়মে মৌখিকভাবে মরিয়মকে বিয়ে করেছিলেন নজরুল ইসলাম। পরে ওই বিয়ে কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়।

মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।

রিমান্ডে পাওয়া তথ্য আদালতে উপস্থাপন

নজরুল ইসলামকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। প্রসিকিউশনের পক্ষে পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার বাদী মরিয়মের বাবা এসএম মাসুম বিল্লাহ তার আত্মীয়। পুলিশ বলছে, ঢাকায় এলে নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবার বাসায় থাকতেন এবং সেখান থেকেই সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এভাবে মরিয়মের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ১৭ জুন ধর্মীয় নিয়মে মৌখিকভাবে মরিয়মকে বিয়ে করেন তিনি। পরে নিজ এলাকায় ওই বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়।

ন্যাম ভবনে থাকার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য

আদালতে দেওয়া আবেদনে পুলিশ জানায়, ন্যাম ভবনে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়ম থাকতেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে মরিয়মকে মাঝে মাঝে নজরুল ইসলামের শয়নকক্ষের পাশের বেলকনিতে ঘুমাতে হতো।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনা সম্পর্কে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

জামিন চেয়ে আবেদন

এদিন নজরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, প্রথমে থানা পুলিশ এবং পরে ডিবি পুলিশ নজরুলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা বা আত্মহত্যায় প্ররোচনার বিষয়ে পুলিশ কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

শুনানি শেষে আদালত নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

যেভাবে শুরু হয় মামলা

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই রাতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পরে মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এসএম মাসুম বিল্লাহ।

পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই রাতেই মামলার তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এক দিনের রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও কারাগারে পাঠানো হয়।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বহিষ্কার

এর আগে গত ২০ জুলাই ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেছিলেন।

পরে গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। এরপর সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।

মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। পুলিশের উপস্থাপিত তথ্য ও অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


-স্বাধীন/এস

ন্যাম ভবনের বারান্দায় ঘুমাতেন মরিয়ম, আদালতে পুলিশের তথ্য
লোগো
Sep 29, 2026

ন্যাম ভবনের বারান্দায় ঘুমাতেন মরিয়ম, আদালতে পুলিশের তথ্য

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta