শিকলবিহীন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যই শিকল ভেঙেছি আমরা: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শিকল ভাঙার উদ্দেশ্য শুধু একটি স্বৈরাচারী বা নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার অবসান নয়; বরং এমন একটি শিকলবিহীন, গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে জনগণের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সৃষ্টিশীল শক্তিকে আর কখনও শৃঙ্খলিত করা যাবে না।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও বাংলাদেশকে বারবার শিকল ভাঙার সংগ্রামে নামতে হয়েছে। কারণ জনগণের কণ্ঠস্বর বারবার দমিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে। এর ফলে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে এবং প্রতিবারই জনগণকে রক্ত, প্রাণ ও ত্যাগের বিনিময়ে সেই শিকল ভাঙতে হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের গতি ব্যাহত হয়েছে। এবারের শিকল ভাঙার মধ্য দিয়ে শুধু নতুন করে জেগে ওঠাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ জনগণের ওপর শিকল পরাতে না পারে, সে লক্ষ্যেই একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, এবারের শিকল ভাঙার আন্দোলনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো—শিকল ভাঙার পর কী করা হবে, সে রূপরেখা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে আগেই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, "আমরা যেমন শিকল ভাঙতে পেরেছি, তেমনি একটি শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়ও আমরা অটল প্রতিজ্ঞ।"
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ শুধু একটি প্রকাশনা নয়; এটি জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তিনি জানান, সংকলনে মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের স্মৃতিচারণ, বিশ্লেষণ ও আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থাগুলোর উদ্যোগে জুলাই আন্দোলন নিয়ে আরও প্রকাশনা, তথ্যচিত্র ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম, অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
-স্বাধীন দিগন্ত/ এমএ
শিকলবিহীন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যই শিকল ভেঙেছি আমরা: তথ্যমন্ত্রী

