আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশঃ Aug 9, 2026 - 18:17
আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

আগামী ১০ বছরের জন্য দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি যানবাহনের প্রয়োজনীয় গ্যাসের ব্যবস্থাও করা হবে।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচার আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এখন জনগণের স্বার্থে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নতুন করে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেমন হবে, সে বিষয়ে একটি পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা তুলে ধরার পরই এর বাস্তবায়ন শুরু করা হবে।

জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত কিছুদিন ধরে গুটিকয়েক মানুষ এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। কারও কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। তবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা জনগণের শান্তি নষ্ট করা যাবে না।’

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে জ্বালানি ও নিরাপত্তার সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে শান্তি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীরা চান, তাদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দরে পৌঁছাবে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালও যথাসময়ে আসবে। শিল্পকারখানা সচল রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আনোয়ারায় চীনকে আমরা একটি বিরাট জায়গা দিয়েছি। এই যে চীন থেকে আমি ঘুরে এলাম, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সেখানে তারা কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরি করবে। এসব মিল-কারখানায় সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ ইনশাআল্লাহ কাজের সুযোগ পাবে। এর ফলে একদিকে যেমন বেকার সমস্যার সমাধান হবে, অন্যদিকে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব। সেই বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাঁশখালীর কিছু এলাকায় লবণচাষিরা রয়েছেন। শুধু ধান, পাট, শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল চাষ করেন এমন ব্যক্তিরাই কৃষক কার্ড পাবেন—বিষয়টি এমন নয়। লবণচাষিরাও ইনশাআল্লাহ কৃষক কার্ড পাবেন।

লবণের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনা করে আমরা ইনশাআল্লাহ লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি। যে মূল্য পেলে লবণচাষি ভাইদের স্বাবলম্বিতা আসবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হবেন। আগামী কিছুদিনের মধ্যে সেই দামটি সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে লবণচাষিদের আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।’

সমাবেশে বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে সারাদেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বাঁশখালী এলাকায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
লোগো
Aug 9, 2026

আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta