স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (US-Bangladesh Business Council—USBBC) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে এক ছাতার নিচে এনে কার্যক্রম সহজ করতে সরকার ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেছে। গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও আইনি সুবিধাগুলো সুসংগঠিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিভিন্ন প্রস্তাবও সরকার পর্যালোচনা করছে। এসব উদ্যোগ দেশের জ্বালানি খাতের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারি পর্যায়ের (G2G) উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা, স্মার্ট পুলিশিংয়ের আওতায় ‘সেফ সিটি’ প্রকল্প, সীমান্ত নিরাপত্তায় ‘ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট’ এবং ই-ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান কোম্পানিগুলো কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বর্তমানে তারা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী।
বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত সক্ষমতা উন্নয়নের পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও কর আহরণের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে এ উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সরকারকে সহযোগিতা করতে এবং অংশীদার হতে পারে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অতুল কেশপের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
-স্বাধীন দিগন্ত/ এমএ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

