ইরানে অস্ত্র-গোলাবারুদ ভর্তি বিশাল জাহাজের বহর পাঠালো রাশিয়া
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক সামগ্রীর এক চালান পাঠিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি এই বিশাল অস্ত্র ও গোলাবারুদের চালান নিয়ে কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে ২ ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ।
গোয়েন্দা নথি এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক জিম ল্যামসন এ সম্পর্কে বলেন, এ তথ্য থেকে আমরা দু’টি ব্যাপার জানতে পেরেছি— (১) মস্কো এবং তেহরান নিজেদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করছে এবং (২) মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের জেরে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে; অর্থাৎ ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ করে মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানগুলো সফল হয়েছে।
ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে যেসব জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো সব রুশ জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এমজি-ফ্লোটের তৈরি। ২০২৪ সাল থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে কোম্পানিটি।
২০২৫ সালের জানুয়ারি ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নামে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তেহরান এবং মস্কোর মধ্যে। এই চুক্তির শর্ত অনুসারে, আগামী ২০ বছর পর্যন্ত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি খাতে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া ও ইরান।
এই চুক্তির অনেক আগে থেকেই অবশ্য রাশিয়াকে সহযোগিতা করে আসছে ইরান। বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে নিয়মিত নিজেদের তৈরি লাদেন বা সুইসাইড ড্রোন শাহেদ এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে ইরান। রাশিয়া আবার নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শাহেদ ড্রোনের মান ও বিধ্বংসী ক্ষমতার উন্নয়নও করেছে।
ইরানকে অস্ত্র সহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনে যোগাযোগ করেছিল এনবিসি। তবে ক্রেমলিনের কর্মকর্তরা এই তথ্যকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এসটিআর
ইরানে অস্ত্র-গোলাবারুদ ভর্তি বিশাল জাহাজের বহর পাঠালো রাশিয়া

